উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী – William Jones Biography in Bengali

13
উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী - William Jones Biography in Bengali
উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী - William Jones Biography in Bengali

উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী

William Jones Biography in Bengali

উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী – William Jones Biography in Bengali : দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি কলকাতার একটি অগ্রণী গবেষণা সংস্থা। ১৭৮৪ সালের ১৫ জুলাই ভারততত্ত্ববিদ স্যার উইলিয়াম জোনস ব্রিটিশ ভারতের তদানীন্তন রাজধানী কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতের তদানীন্তন গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন এই সংস্থার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। ১৮০৮ সালে দক্ষিণ কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের একটি ভবনে সংস্থাটি স্থানান্তরিত হয়।

 এশিয়াটিক সােসাইটির প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম জোন্স এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী – William Jones Biography in Bengali বা উইলিয়াম জোন্স এর আত্মজীবনী বা উইলিয়াম জোন্স এর (William Jones Jivani) জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

উইলিয়াম জোন্স কে ছিলেন ? Who is William Jones ?

 উইলিয়াম জোন্স (William Jones) ছিলেন অ্যাংলো-ওয়েলশ ভাষাতত্ত্ববিদ, বাংলার ফোর্ট উইলিয়ামের সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক আদালতের নিম্ন বিচারক এবং প্রাচীন ভারতের একজন পণ্ডিত, বিশেষ করে ইউরোপীয় ও ভারতীয় ভাষার মধ্যে সম্পর্ক আবিস্কারে তার প্রস্তাবের জন্য উইলিয়াম জোন্স (William Jones) পরিচিত, পরে যেটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা নামে পরিচিত হয়।

এশিয়াটিক সােসাইটির প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী – William Jones Biography in Bengali :

নাম (Name)   উইলিয়াম জোন্স (William Jones)
জন্ম (Birthday) ১৭৪৬ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর (28th September 1746)
জন্মস্থান (Birthplace) লন্ডন, ইংল্যান্ড
শিক্ষা  অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
দাম্পত্য সঙ্গী (Spouse) এ্যানা মারিয়া
প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক সোসাইটি
ইংরেজিতে অনুবাদ  ‘শকুন্তলা’, ‘হিতোপদেশ’, জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ ইত্যাদি।
কাজের মেয়াদ 22 October 1783 – 27 April 1794
মৃত্যু (Death) এপ্রিল ২৭, ১৭৯৪ (29th April 1798)

উইলিয়াম জোন্স এর জন্ম – William Jones Birthday :

 উইলিয়াম জোন্স ১৭৪৬ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন । 

উইলিয়াম জোন্স এর পরিচয় – Introduction :

তিনি এশিয়াটিক সােসাইটির প্রতিষ্ঠাতা এবং অষ্টাদশ শতকে সবচাইতে বিদ্বান এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ হিসাবে বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন ।

 তার ভাষাজ্ঞান ছিলাে কিংবদন্তীর মতাে । তিনি প্রায় ২৮-২৯টি ভাষা জানতেন । তিনি ফরাসী , ইংরেজী , গ্রীক , ল্যাটিন , হিব্রু , স্প্যানিশ , রাশিয়ান , পর্তুগীজ , আরবী , ফার্সী , তুর্কী , রুনিক , সিরিয়াক , এথিওপিক , কপটিক , ওয়েল্স , সুইডিস , ডাচ , বাংলা , সংস্কৃত , হিন্দী , তিব্বতি , পালি , পাহুবি , জাপানী , চীনা প্রভৃতি ভাষায় লিখতে পড়তে জানতেন । এমনকি সাহিত্য রচনা করতে পারতেন ।

উইলিয়াম জোন্স এর শৈশব – William Jones Childhood :

 উইলিয়াম জোন্স জীবিতকালেই অর্জন করেছিলেন বিরাট সাফল্য । বিশ্বের চোখে তিনি ছিলেন প্রতিভাবান এক মূর্তিমান বিস্ময় । তার স্মৃতিশক্তিও ছিলাে অনন্যসাধারণ । তেরাে – চোদ্দ বছর বয়স থেকেই । তিনি বিরাট একটা বই পড়ে তা আবার লিখে ফেলতেও পারতেন । 

উইলিয়াম জোন্স এর শিক্ষাজীবন – William Jones Education Life :

 ১৭৪৬ সালে উইলিয়াম জোন্স ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে অক্সফোর্ডে ভর্তি হন । তাকে দেখে অক্সফোর্ডের শিক্ষকরা বুঝতে পারেন জোন্স এক অসাধারণ প্রতিভাধর ছাত্র । এর ফলে কলেজে তার দৈনিক উপস্থিতি মওকুফ হয়ে যায় । পড়ালেখার জন্য তাকে নিত্য নিয়মিত ক্লাসে না এলেও চলতাে ।

ইনাদিরী ফরাসি অনুবাদ : 

  অক্সফোর্ডে থাকতেই তিনি শিখলেন আরবী ভাষা । ১৭৬৮ খ্রিঃ শিখলেন ফারসী ভাষা এই সময়েই তিনি ডেনমার্কের রাজা সপ্তম ক্রিশ্চিয়ানের অনুরােধে মির্জা মেহেদীর নাদির শাহের ইতিহাস তারিখ “ ইনাদিরী – এর ফরাসী অনুবাদ করে দেন । সেই অনুবাদ পড়ে ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই সবিস্ময়ে বলেছিলেন — এ ছেলে তাে ফরাসী ভাষা আমার চেয়েও ভালাে জানে দেখছি ।

উইলিয়াম জোন্স এর কলেজ জীবন – William Jones College Life :

 ১৭৬৮ সালে জোন্স গ্র্যাজুয়েট পাস করে ব্যারিস্টারী পড়া শুরু করেন । 

উইলিয়াম জোন্স এর ফরাসীতে বই অনুবাদ – William Jones’s book translation into Persi :

 ১৭৭১ থেকে ১৭৭৪ খ্রিঃ মধ্যে ছাপা হলাে তার ফারসী ব্যাকরণ ও কবিতাগুচ্ছ । নানা ভাষার কবিতার অনুবাদ । তারপর বের হয় কবি হাফিজের কবিতার অনুবাদ — এ পার্সিয়ান সং অব হাফিজ ‘ । ১৮২৮ সালের মধ্যে তার ফারসী ব্যাকরণ বইটির নবম সংস্করণ প্রকাশিত হয় । বইটি প্রকাশের সাথে সাথে জোন্সের তিনটি খেতাব জুটে গেলাে — ফারসী জোন্স , ভাষাবিদ জোন্স এবং ওরিয়েন্টাল জোন্স । 

উইলিয়াম জোন্স রয়াল সোসাইটির ফেলো – William Jones Fellow of the Royal Society :

 উইলিয়াম জোন্স ১৭৭২ খ্রিঃ এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখে ২৬ বছর বয়সে লন্ডন রয়াল সােসাইটির ফেলো হন ১৭৭৩ খ্রিঃ । ডঃ জনসন ক্লাবের সদস্য । ওই বছরের জুন মাসে তিনি এম . এ . ডিগ্রী লাভ করেন । ১৭৭৪ খ্রিঃ আইনজীবীর পেশা শুরু করেন । 

[আরও দেখুন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনী – Rabindranath Tagore Biography in Bengali]

উইলিয়াম জোন্স কলকাতা সুপ্রিম কোর্টের জজ – William Jones Judge of the Supreme Court :

 ১৭৮৩ খ্রিঃ জোন্স ভারতবর্ষে আসেন । জজ হয়ে যােগদান করেন কলকাতার সুপ্রিম কোর্টে । এখানে প্রেরণের পূর্বে তাকে ‘ নাইট ’ উপাধিতে সম্মানিত করা হয় ১৭৮৩ খ্রিঃ । স্ত্রী এ্যানা মারিয়াকে সঙ্গে নিয়েই তিনি কর্মস্থল কলকাতায় আসেন । 

উইলিয়াম জোন্স এর এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা – Establishment of the Asiatic Society :

 উইলিয়াম জোন্স ভারতে এসে খুঁজে পেলেন সংস্কৃত সাহিত্যের রত্নভান্ডার । ভারত যেন সাহিত্য , সংস্কৃতি , দর্শন এবং বিজ্ঞানশাস্ত্রের এক বিশাল রত্নখনি । তিনি লন্ডনের রয়াল সােসাইটির মতাে কলকাতায় এশিয়াটিক সােসাইটি অব বেঙ্গল প্রতিষ্ঠা করলেন । তিনি সর্বসম্মতিক্রমে এর সভাপতি নির্বাচিত হলেন ।

 উইলিয়াম জোন্স এরপর সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা শুরু করেন । তিনি বেনারসে গিয়ে খোঁজ পেলেন বৈদিক ঋষি মনুর মানবধর্ম শাস্ত্রের । শুরু করলেন অধ্যয়ন , গবেষণা । তিনি দেখলেন ভারতের সংস্কৃত এবং ইউরােপের অনেক ভাষাই মূলত একই ভাষা থেকে এসেছে । ১৭৮৬ খ্রিঃ তিনি প্রকাশ করেন তার গবেষণার ফসল । তার ফলে জন্ম নিলাে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব বিজ্ঞান । 

 উইলিয়াম জোন্স সারাক্ষণ মেতে রইলেন সংস্কৃত সাহিত্যের গবেষণা নিয়ে । তিনি মহাকবি কালিদাসের নাম দিলেন ভারতের শেক্সপীয়র ” । ইউরােপে শকুন্তলার কাহিনী ম্লান করে দিলাে ফরাসী বিপ্লবের গল্পকে । 

এই মহান কিংবদন্তী পুরুষের জীবনকাল ছিলাে খুবই সংক্ষিপ্ত । ১৭৯৩ সালে স্ত্রী এ্যানা মারিয়া কলকাতা ছেড়ে লন্ডনে চলে যান । পরের বছর অর্থাৎ ১৭৯৪ খ্রিঃ জোন্স কৃত মনু সংহিতার অনুবাদ প্রকাশিত হয় । ঐ বছরের ১৭ ই এপ্রিল উইলিয়াম জোন্স ।

উইলিয়াম জোন্স এর মৃত্যু – William Jones Death :

টিউমার রােগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র এপ্রিল ২৭, ১৭৯৪, ৪৮ বছর বয়সে কলকাতার একহাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । কিন্তু তিনি অমর হয়ে আছেন বিদ্যানুরাগীদের মাঝে । বেঁচে আছেন তার সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান এসিয়াটিক সােসাইটির নামের মধ্য দিয়ে ।

উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – William Jones Biography in Bengali (FAQ):

  1. উইলিয়াম জোন্স এর জন্ম কবে হয় ?

Ans: ১৭৪৬ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর ।

  1. উইলিয়াম জোন্স কবে ভারতে আসেন ?

Ans: ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে ।

  1. উইলিয়াম জোন্স কোথায় জন্মগ্রহণ করেন ?

Ans: ইংল্যান্ড এর লন্ডনে ।

  1. উইলিয়াম জোন্স এর স্ত্রীর নাম কী ?

Ans: এ্যানা মারিয়া ।

  1. উইলিয়াম জোন্স মূলত কে ছিলেন ?

Ans: বহু ভাষাবিদ ও এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ।

  1. উইলিয়াম জোন্স কত সালে পারসি ভাষায় নাদির শাহের জীবনী অনুবাদ করেন ?

Ans: ১৭৭০ সালে ।

  1. উইলিয়াম জোন্স কত সালে এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠা করেন ?

Ans: ১৭৮৪ সালে ।

  1. উইলিয়াম জোন্স কোন কোন গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন?

Ans: ‘শকুন্তলা’, ‘হিতোপদেশ’, জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ ইত্যাদি ।

  1. উইলিয়াম জোন্স প্রাচ্যভাষা শেখেন কোথা থেকে ?

Ans: অক্সফোর্ড থেকে ।

  1. উইলিয়াম জোন্স কবে মারা যান ?

Ans: এপ্রিল ২৭, ১৭৯৪ সালে ।

[আরও দেখুন, কাজী নজরুল ইসলাম জীবনী – Kazi Nazrul Islam Biography in Bengali

আরও দেখুন, জহরলাল নেহেরু জীবনী – Jawaharlal Nehru Biography in Bengali

আরও দেখুন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জীবনী | Sarat Chandra Chattopadhyay Biography in Bengali

আরও দেখুন, সুকান্ত ভট্টাচার্য জীবনী – Sukanta Bhattacharya Biography in Bengali

আরও দেখুন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী – Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali]

উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী – William Jones Biography in Bengali

   অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই ” উইলিয়াম জোন্স এর জীবনী – William Jones Biography in Bengali  ” পােস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকো যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইট টি ফলাে করো এবং নিজেকে  তথ্য সমৃদ্ধ করে তোলো , ধন্যবাদ।