নদী – ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন (Madhyamik Geography Suggestion)

2883

মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন – Madhyamik Geography Suggestion

নদী -  ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন (Madhyamik Geography Suggestion)

মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন (Madhyamik Geography Suggestion) – নদী –  ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর  দেওয়া হল নিচে। এই মাধ্যমিক  ভূগোল সাজেশন – নদী –  ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর গুলি আগামী সালের পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট। তোমরা যারা মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর  ভূগোল পরীক্ষার সাজেশন খুঁজে চলেছো, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্নপত্র ভালো করে পড়তে পারো। এই পরীক্ষা তে কোশ্চেন গুলো আসার সম্ভাবনা খুব বেশি।

প্রথম অধ্যায়ঃ বহির্জাত প্রক্রিয়া তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ | উপঅধ্যায়-২ নদী –  ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর

নদী –  ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর (দশম শ্রেণীর ভূগোল)

1. জলচক্রের অংশ হিসেবে নদীর ভূমিকা কীরূপ ?

 উত্তর : সাগর , মহাসাগর , হ্রদ , অন্যান্য জলাশয় এবং মৃত্তিকার কৈশিক জল বাষ্পীভবন ( Evaporation ) প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়ে ওপরে ওঠে এবং ঘনীভূত ( Condensation ) হয়ে সৃষ্টি হয় মেঘ । এই মেঘ আকাশে ভেসে বেড়ায় এবং বায়ু সম্পৃক্ত হলে এই মেঘ থেকেই অধঃক্ষেপণ ( Precipitation ) ঘটে , ( যেমন — বৃষ্টি , শিলাবৃষ্টি , তুষারপাত ) , যা ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে । 
           এই বৃষ্টি , শিলাবৃষ্টি , হিমবাহ ও তুষারগলা জলের কিছুটা । অংশ মাটি চুঁইয়ে ভূঅভ্যন্তরে প্রবেশ করে ( একে বলে অনুস্রাবণ বা Infiltration ) এবং বাকি অংশ পৃষ্ঠপ্রবাহ ( Surface runoff ) হিসেবে ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে স্থানীয় প্রবাহ রুপে নদীখাত সাগরে গিয়ে মেশে । জলের এই চক্রাকার আবর্তন হল জলচক্র এবং এটি বলাই যায় যে , এই জলচক্রের অংশ হিসেবে নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় । 

2. নদীর ক্ষয় প্রক্রিয়া কোন কোন বিষয়ের ওপর  নির্ভরশীল ? 

উত্তর : নদীর ক্ষয়কাজ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে – ( i ) নদীর গতিবেগ : নদীর গতিবেগ নির্ভর করে নদীর ঢালের ওপর । পার্বত্য অঞ্চলে তাই অধিক ঢালের জন্য গতিবেগ অনেক বেশি হয় । ফলে জলপ্রবাহ দ্বারা ক্ষয়ও বৃদ্ধি পায় । নদীর গতিবেগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীবাহিত পদার্থও গতিবেগ প্রাপ্ত হয় । সেই সকল পদার্থসমূহই তখন অবঘর্ষ ও ঘর্ষণ ক্ষয় প্রক্রিয়ায় ক্ষয় করে ।
 ( ii ) জলের পরিমাণ : বর্ষাকালে নদীতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় । তাই অন্যান্য ঋতু অপেক্ষা এই ঋতুতে নদীর ক্ষয় বেশি হয় ।
 ( iii ) শিলাস্তরের প্রকৃতি : নদীর তলদেশে ও পার্শ্বদেশে নরম শিলাস্তর থাকলে , তা কঠিন শিলাস্তর অপেক্ষা দ্রুত ক্ষয় পায় । 
( iv ) প্রবাহিত পদার্থের আয়তন ও পরিমাণ : নদীবাহিত পদার্থের আয়তন ও পরিমাণ যত বাড়ে ততই নদীর অবঘর্ষ ও ঘর্ষণ ক্ষয়  পদ্ধতিতে ক্ষয় বাড়ে । 

3. নদীর ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়াগুলি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করাে । 

উত্তর : নদী চারভাবে ক্ষয় করে —
( i ) জলপ্রবাহ ক্ষয় : জলস্রোতের প্রবল আঘাতে নদীখাত ও নদীপাড়ের অপেক্ষাকৃত কোমল শিলা খুলে বেরিয়ে আসে । এটি জলপ্রবাহ ক্ষয় । 
।( ii) অবঘর্ষ : নদীবাহিত নুড়ি , বােল্ডার ও অন্যান্য পাথরের খণ্ড নদীর গতির সঙ্গে গতিপ্রাপ্ত হয়ে নদীর তলদেশ ও পার্শ্বদেশে আঘাত করে নদীর গভীরতা বাড়ায় এটি অবঘর্ষ । 
(iii) ঘর্ষণ ক্ষয় : নদীবাহিত বিভিন্ন আকারের প্রস্তরখণ্ড পরস্পরের সঙ্গে আঘাতে ভেঙে অবশেষে নুড়ি , বালি ও পলিকণায় পরিণত হয় ।
 ( iv ) দ্রবণ ক্ষয় : জলের সঙ্গে দ্রবীভূত অম্নের প্রভাবে লবণ ও ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেট যুক্ত শিলাস্তর রাসায়নিকভাবে বিয়ােজিত হয় । এটি হল দ্রবণ ক্ষয় । 

4.নদীর বহন ক্ষমতা কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

 উত্তর : নদীর বহন ক্ষমতা নির্ভর করে – 
 i ) নদীর গতিবেগ : নদীর গতিবেগ বাড়লে নদীর বহন ক্ষমতাও বাড়ে । তাই সমভূমি অঞ্চলের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলে নদীর বহন ক্ষমতা বেশি থাকে । কোনাে কারণে নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বৃদ্ধি  পেলে তার বহন ক্ষমতা ৬৪ গুণ বাড়ে ( নদীর ষষ্ঠঘাতের সুত্র ) । 
ii ) নদীর ঢাল : নদীর ঢাল বেশি হলে নদীর বহন ক্ষমতা বাডে । তাই পার্বত্য অঞ্চলে নদীর বহন ক্ষমতা বেশি ।
iii ) জলের পরিমাণ : বর্ষাকালে নদীতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় বলেই নদীর বহন ক্ষমতাও বাড়ে । 
iv ) প্রবাহিত পদার্থের পরিমাণ ও আয়তন : নদীর বােঝা  ( Load ) যে বস্তু যত ভারী ও বড়াে হয় নদী তাকে বেশি দূর পর্যন্ত বহন করতে পারে না । বস্তুর ওজন হালকা , ছােটো ও পরিমাণ কম  হলে , নদী তা বহুদূর পর্যন্ত বহন করতে পারে । 

5. নদীর বহন প্রক্রিয়াগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখাে । 

উত্তর : নদী পদার্থকে চারভাবে বহন করে — 
( i ) দ্রবণ প্রক্রিয়ায় বহন : নদীর জলে দ্রবীভূত অম্নের প্রভাবে শিলাস্তর বিয়ােজিত ও দ্রবীভূত হয়ে বাহিত হয় ।
 ( ii ) ভাসমান প্রক্রিয়া : অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম পলি ও বালি নদীর জলে ভেসে  ভেসে বাহিত হয় ।
 ( iii ) লম্ফদান প্রক্রিয়া : অপেক্ষাকৃত বড়াে খণ্ডগুলি নদীর তলায় ধাক্কা খেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে চলে। 
(iv) আকর্ষণ প্রক্রিয়া : নদীর তলদেশ দিয়ে স্রোতে টানে ছােটো ছােটো নুড়ি নীচের দিকে নেমে এলে তা আকর্ষণ প্রক্রিয়া । 

6. উচ্চগতিতে নদীকার্যের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী ? 

 উত্তর : উচ্চগতিতে নদীকার্যের কয়েকটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য হল – 
 ( i ) ভূমির ঢাল বেশি হয় বলে নদীর বেগও খুব বেশি থাকে ( ii ) নদীতে বােল্ডার ও নুড়ির পরিমাণ বেশি থাকে বলে অবঘর্ষ পদ্ধতিতে প্রবল নিম্নক্ষয় হয় । 
( iii ) প্রবল স্রোতে নদী প্রায় সব পদার্থই বহন করে । 
( iv ) সঞ্চয় প্রায় হয়ই না ।
( v ) উচ্চগতিতে নদীর গভীরতা বেশি থাকে কিন্তু বিস্তৃতি খুব কম হয় । 

7. উচ্চগতিতে নদীর প্রধান কাজ কী কী ও কেন ? 

উত্তর: উচ্চগতিতে নদীর প্রধান কাজ হল –
 ( i ) নিম্নক্ষয় : কারণ নদীর ঢাল বেশি হওয়ায় নদীর গতিবেগ বেশি থাকে । ফলে নদীর দ্রুত ও অনেক বেশি নিম্নক্ষয় করে । 
( i ) পার্শ্বক্ষয় : নদীর প্রবল গতিবেগ ও পার্শ্বদেশে নরম শিলাস্তর থাকলে নদীর পার্শ্বক্ষয়ও হয় ।
( ii ) বহন : নদীতে জলের অধিক পরিমাণ ও নদীর ঢাল বেশি হওয়ায় বহন কাজও বেশি । 
    তবে উচ্চগতিতে সঞ্চয় একেবারেই হয় না ।

 8.’ I ‘ আকৃতির উপত্যকা কীভাবে ‘ V ‘ আকৃতিতে পরিণত হয় , তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা করাে । 

উত্তর : উচ্চগতিতে ভূমির উচ্চতা ও ঢাল খুব বেশি হওয়ায় নদী অতি প্রবলবেগে নিম্নক্ষয় করে । ফলে উপত্যকার আকৃতি হয় ‘ I ‘ – এর মতাে । 
( ii ) পরবর্তীকালে নদী উপত্যকার পার্শ্বদেশ বৃষ্টির জল , আবহবিকার বা ধসের ফলে ক্ষয় পেতে থাকলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার আকৃতি সংকীর্ণ’ V ‘ – এর মতাে হয় । 

9. কী কী ভাবে জলপ্রপাত গঠিত হতে পারে ?

 উত্তর: পার্বত্য অংশে উপত্যকার ঢাল অসম হলে নদীর জল উপর থেকে নীচের দিকে প্রবল বেগে পড়ে । এটি হল জলপ্রপাত । জলপ্রপাত বিভিন্নভাবে সৃষ্টি হয় – (i) নদীর গতিপথে কঠিন ও নরম শিলা অনুভূমিক , উল্লম্ব বা তির্যকভাবে অবস্থান করলে কঠিন অপেক্ষা নরম শিলা বেশি ক্ষয় হয়ে জলপ্রপাত গঠিত হয় । অধিকাংশ জলপ্রপাত এভাবেই সৃষ্টি । ( ii ) নদীর গতিপথে আড়াআড়ি
চ্যুতি ঘটলে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয় । যেমন — জাম্বেসি নদীর ভিক্টোরিয়া  জলপ্রপাত , ভারতের নর্মদা নদীর কপিলধারা জলপ্রপাত । (iii ) হিমবাহ সৃষ্ট ঝুলন্ত কঠিন নিকপয়েন্ট উপত্যকায় জলপ্রপাত গঠিত হয় । যেমন — লাডাকের নিপসেন্ট পার্কচাক জলপ্রপাত । ( iv ) ভূমির পুনর্যৌবন লাভের সৃষ্ট নিকবিন্দুতে জলপ্রপাত গঠিত হয় । যেমন — সুবর্ণরেখা নদীর জনা ও দশম জলপ্রপাত । 

10. জলপ্রপাত পশ্চাদ অপসারণ করে কেন ? বা জলপ্রপাত নদীর উৎসের দিকে সরে যায় কেন ? 

উত্তর : উচ্চগতিতে নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা  
অনুভূমিক ও উল্লম্বভাবে অবস্থান করলে কোমল শিলা বেশি ক্ষয় হয়ে জলপ্রপাত গঠিত হয় । জলপ্রপাতের নীচে গভীর গর্ত ( প্লাঞ্জপুল ) গঠিত হয় বলে উপরের কঠিন শিলাস্তরটি  ঝুলতে থাকে এবং একসময় তা ভেঙে পড়ে এবং জলপ্রপাতটি নদীর উৎসের দিকে সরে যায় । একেই জলপ্রপাতের পশ্চাদ অপসারণ বলে । পৃথিবীর বিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত এইভাবেই একটু একটু করে সরে গেছে । 

11. উচ্চগতিতে নদী উপত্যকা ‘ I ’ বা ‘ V আকৃতির কিন্তু মধ্যগতিতে অগভীর ‘ U ’ আকৃতির হয় কেন ? 

উত্তর : উচ্চগতিতে নদীর ঢাল খুব বেশি থাকায় নদী প্রবল বেগে প্রবাহিত হয় । তাই পার্বত্য প্রবাহ বা উচ্চগতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় অধিক হয় । এর ফলস্বরুপ নদী উপত্যকা I ” ও ‘ V আকৃতির হয় । 
   অপরদিকে পার্বত্য প্রবাহ ছেড়ে নদী যখন সমভূমি বা মধ্যগতিতে প্রবেশ করে , তখন ভূমির ঢাল কমে যায় ও নদীর গতিবেগও কমে যায় ও নদীর সঞ্চয়কাজ বেড়ে যায় । মধ্যগতিতে নদীর জলের পরিমাণ বাড়ে বলে নদীর পার্শ্বক্ষয় ঘটে কিন্তু নিম্নক্ষয় ঘটে না । পার্শ্বক্ষয় বেশি হয় বলে নদী উপত্যকা ক্রমশ চওড়া হতে থাকে । এই কারণে মধ্যগতিতে অগভীর ‘ U ‘ আকৃতির উপত্যকা দেখা যায় । 

12. মধ্যগতি ও নিম্ন গতিতে নদী সঞ্চয়কাজ করে কেন ?

 উওর : নদী তার মধ্যগতি ও নিম্ন গতিতে নদী সঞ্চয়কাজ করে।  কারণ – 
( i ) মধ্য ও নিম্ন গতিতে জলের গতিবেগ মাঝারি ও খুব কম হয় । 
( ii ) এই দুই গতিতে নদীর ঢাল ক্রমশই কমতে থাকে ।
 ( ii ) এখানে নদীর বহন ক্ষমতাও অনেক বেশি । 
( iv ) এই কারণেই নদী তার বয়ে আনা পলি – বালি আর বইতে – পেরে এখানেই সঞ্চয় করে । 

 13. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের উৎপত্তি লেখাে । 

উত্তর: মধ্যগতি ও নিম্নগতিতে নদীর ঢাল কমে যাওয়ায় নদীর শক্তিও অনেকাংশে হ্রাস পায় । তাই এই পর্যায়ে নদীর সামনে কোনাে কঠিন বাধা এসে পৌছােলে নদী এই বাধা এড়িয়ে কিছুটা এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়  নদীবাঁকের , অবতল অংশে জলপ্রবাহ ক্ষয় এবং উত্তল অংশে পলিসঞ্চয়ে নদীবাঁক ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং এক সময় বাকের মধ্যবর্তী স্থান সংকীর্ণ হয়ে যুক্ত হয় । এই অবস্থায় নদীটি সােজা হয়ে চলতে থাকে এবং পরিত্যক্ত বিচ্ছিন্ন বাঁকটি হ্রদের আকারে অবস্থান করে । এই হ্রদ দেখতে ঘােড়ার খুরের মতাে বলেই একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলা হয়

 14. পলল শঙ্কু ও পলল ব্যজনী কীভাবে গড়ে ওঠে ?

 উত্তরঃ পলল শঙ্কু: পার্বত্য অঞ্চল পেরিয়ে নদী যখন সমভূমিতে নেমে আসে তখন নদী উপত্যকার ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদীর বহন ক্ষমতা ও বেগ দুইই হঠাৎ কমে যায় । এই অবস্থায় পর্বতের পাদদেশে পলি , কাকর , নুড়ি , বালি প্রভৃতি শঙ্কুর  আকারে সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিরূপ গঠন করে তাকে পলল শঙ্কু বলে ।
    পলল ব্যজনী : পলল শঙ্কুর ওপর দিয়ে নদী অসংখ্য শাখায় বিনুনীর আকারে প্রবাহিত হয় বলে  পলল শঙ্কু বিস্তৃত হয়ে নীচু হয় ও অর্ধগােলাকার আকৃতি নেয় । এটিই হল পলল ব্যজনী ।

 15. প্লাবনভূমির উৎপত্তি কীভাবে ঘটে উদাহরণসহ লেখাে ।

 উত্তর : মধ্য ও নিম্ন গতিতে নদীগর্ভে পলি ভরাট হয়ে নদীগর্ভ  অগভীর হয় । ফলে নদীতে জলের পরিমাণ বাড়লে নদী দু – কুল ছাপিয়ে নদী অববাহিকায় বন্যার সৃষ্টি করে ।
   বন্যার প্রভাবে নদীর দু – পাশে অববাহিকা বরাবর পলি , বালি , নুড়ি সঞ্চিত হয় । বারংবার বন্যার প্রভাবে অববাহিকায় পলি , বালি , নুড়ি ক্রমাগত সঞ্চিত হয়ে তা সমভূমির রূপ নেয় । বন্যার প্রভাবে সৃষ্ট এই সমভূমি প্লাবন সমভূমি নামে পরিচিত ।
    ভারতে অসমের ব্রম্মপুত্র অববাহিকার সমভূমি , মিশরে নীলনদ অববাহিকার সমভূমি প্লাবন সমভূমির উদাহরণ । 
  উদাহরণ : গঙ্গা , ব্রম্মপুত্র , নীলনদ , সিন্ধুনদের অববাহিকায়  দেখা যায় ।

 16. বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয় ?

 উত্তর : নদীর নিম্নগতিতে মােহানায় নদীর গতিবেগ কমে যায় কিন্তু সূক্ষ্ম পলির পরিমাণ খুব বেশি থাকে । ফলে মােহানার সমুদ্রগর্ভ পলিসঞ্চয়ের মাধ্যমে ভরাট হয়ে উঁচু হতে থাকে এবং নদী শাখাপ্রশাখায় ভাগ হয়ে প্রবাহিত হয় । দুই শাখার অন্তর্বর্তী অংশ মাত্রাহীন ব ’ – এর আকার ধারণ করে । প্রথম অবস্থায় এই অংশ  নীচু জলাশয় হিসেবে অবস্থান করে । পরবর্তীকালে নদীর সঙ্গে সমুদ্রতরঙ্গ বাহিত পলিও সঞ্চিত হয় এবং নিম্নাংশটি ক্রমশ ভরাট হয়ে বদ্বীপ গঠন করে । এইভাবেই পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ বড়াে বড়াে নদীর মােহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে ।   

17. আকৃতি ও উদাহরণসহ বদ্বীপের শ্রেণিবিভাগ করো ।

উত্তর : আকৃতি অনুযায়ী দ্বীপ চার ধরনের , যথা – ১ ) ধনুকাকৃতি বদ্বীপ ( Arcuate Delta ) : বদ্বীপের সমুদ্রমুখী বহিরেখা ধনুকের মতাে আকৃতিবিশিষ্ট হলে তা ধনুকাকৃতি বদ্বীপ । গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র , নীল  পাে , হােয়াংহাে প্রভৃতি নদীর বদ্বীপ এরূপ । ( ২ ) পাখির পায়ের মতাে বদ্বীপ ( Bird ‘ s foot Delta ) : মূল নদী বহুশাখায় ভাগ হয়ে পাখির পায়ের আঙুলের মতাে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ হয়ে সমুদ্রের দিকে এগােলে নদী বরাবর সঞ্চয়কাজে এরুপ বদ্বীপ গঠিত হয় । যেমন — মিসিসিপি – মিসৌরী বদ্বীপ । ( ৩ ) করাতের দাঁতের মতাে বদ্বীপ ( Cuspate Delta ) : মােহানায় সমুদ্রতরঙ্গের আঘাত প্রবল হলে নদীর পলি দুদিকে ছড়িয়ে পড়লে বদ্বীপটি করাতের দাঁতের  মতাে আকৃতির হয় । যেমন — ইতালির তাইবার বদ্বীপ । ( ৪ ) খাড়ীয় বদ্বীপ ( Estuary Delta ) : খাঁড়ির মধ্যে বদ্বীপ গঠিত হলে তা  খাঁড়ীয় বদ্বীপ । এই ধরনের বদ্বীপ সংকীর্ণ হয় । যেমন — ফ্রান্সের  সীন এবং জার্মানির রাইন নদীর বদ্বীপ ।  

18. কোন কোন অনুকূল পরিবেশ থাকলে বদ্বীপ গঠিত হয় । বা , নদীর মােহানায় বদ্বীপ কেন গড়ে ওঠে — ব্যাখ্যা করাে

উত্তর : বদ্বীপ গঠনের অনুকূল পরিবেশ : সব নদীর মােহানায় বদ্বীপ গঠিত হয় না । বদ্বীপ গঠনের জন্য কতকগুলি অনুকূল পরিবেশের প্রয়ােজন হয় – 
( ১ ) পলির পরিমাণ : বৃহৎ নদী অববাহিকা , সুদীর্ঘ নদীর গতিপথ , নদী অববাহিকায় নরম শিলার উপস্থিতি , অসংখ্য উপনদীর অবস্থান ইত্যাদি সুবিধাগুলি থাকলে নদীতে পলির পরিমাণ বাড়বে ।
 ( ২ ) মােহানায় মৃদু ঢাল : মােহানায় নদী মৃদু ঢালে সমুদ্রের সঙ্গে মিশলে তবেই পলিসঞ্চয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হবে ।
 ( ৩ ) অগভীর সমুদ্র : সমুদ্র অগভীর হলে তাড়াতাড়ি পলি ভরাট হয়ে বদ্বীপ গঠিত হবে ।
 ( ৪ ) লবণতা বৃদ্ধি : সমুদ্রজলের লবণতা যত বাড়বে ততই নদীজলের পলিরাশি দ্রুত  অধঃক্ষিপ্ত হবে ।
 ( ৫ ) বিপরীতমুখী স্রোত ও বায়ু : নদী মােহানার বিপরীত দিকের মৃদু স্রোত ও বায়ু পলি জমতে সাহায্য করে । 
( ৬ ) শান্ত সমুদ্র : মােহানার মুখে সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটার প্রকোপ যত কম হবে পলিরাশি তত দ্রুত সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত হবে ।

 19. সমস্ত নদীর মােহানায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয় না কেন ?

 উত্তর : সমস্ত নদীর মােহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয় না , কারণ —  ( i ) যেসব নদীর গতিবেগ অনেক বেশি , সেই সমস্ত নদীর দ্বারা বাহিত পলি , বালি মােহানায় সঞ্চিত না – হয়ে অনেক দূরে চলে যায় ।
 ( ii ) নদী স্বল্প দৈর্ঘ্যের হলে নদীবাহিত পদার্থের পরিমাণ কম হওয়ায় নদীর অবক্ষেপণের পরিমাণও কম হয় ।
 ( iii ) নদীর মােহানার গভীরতা যদি বেশি হয় , তাহলে অবক্ষেপণ হয় না । 
( iv ) নদীর উপনদীর সংখ্যা যদি কম থাকে তাহলে নদীতে পলির জোগান বেশি থাকে না , ফলে সঞয় বেশি হয় না । ( v ) মােহানা অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বেশি হলে বদ্বীপ গঠনের পরিবেশ গড়ে ওঠে না । 

20. আমাজন ও কঙ্গো নদীর মােহানায় বদ্বীপ গঠিত হয়নি কেন

উত্তর: আমাজন ও কঙ্গো দুটি নদী অববাহিকা নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত হওয়ায় প্রচুর জল বহন করলেও মােহানায় বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি , কারণ — 
 ( i ) নদী দুটি প্রচুর জল বহন করে । 
 ( i i ) দুটি নদীই মােহানার নিকট খাড়া ঢালে সমুদ্রে মিশেছে বলে জল প্রবল বেগে সাগরে পড়ে ।
 ( iii ) মােহানার নিকট সমুদ্র দিয়ে আড়াআড়ি সমুদ্রস্রোত বয়ে যাওয়ার ফলে পলিসমেত জল উত্তর দিকে বয়ে যায় ।  
    উক্ত তিনটি কারণে মােহানায় পলি সঞ্চয় ঘটে না বলে বদ্বীপ গঠিত হয়নি ।

 21. সুন্দরবন আমাদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

 উত্তর: ভারত ও বাংলাদেশের সক্রিয় বদ্বীপের অংশ সুন্দরবন  পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য ।
    এই সুন্দরবন আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কারণ — ( i ) বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত এই বায়ােস্ফিয়ার  পার্ক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে 
( ii ) এই বনভূমি প্রবল সামুদ্রিক ঝড় ও জলােচ্ছাস আটকায় । ফলে মৃত্তিকার ক্ষয় রােধ হয় , বন্যার প্রকোপ কমে এবং জমি লবণতার হাত থেকে বাঁচে ।
   তবে বর্তমানে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে সুন্দরবন – এর ভবিষ্যৎ সংকটময় । 

22. লােহাচড়া , নিউমুর ও ঘােড়ামারা দ্বীপগুলির ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব কীভাবে পড়েছে ? 

উত্তর : লােহাচড়া , নিউমুর ও ঘােড়ামারা দ্বীপগুলির ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবগুলি হল —
 ( ক ) লােহাচড়া দ্বীপ : পৃথিবীর প্রথম জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ লােহাচড়া পশ্চিম সুন্দরবনে অবস্থিত ছিল । ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে দ্বীপটি সামুদ্রিক জলতলের উত্থান ও ক্ষয়ের ফলে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হতে শুরু করে । ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে উপগ্রহ চিত্রে দ্বীপটিকে আর দেখা যায়নি । তবে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অনুসারে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে দ্বীপটির কিছু তল আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করে । তাঁদের মতে জোয়ারের সময় সমুদ্রে নিমজ্জিত থাকলেও ভাটার সময় প্রায়  ৩ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত দৃষ্টিগােচর হয় । 
( খ ) নিউমুর দ্বীপ : বঙ্গোপসাগরের বুকে জনমানবশূন্য নতুন দ্বীপভূমি হল নিউমুর । বাংলাদেশে এর নাম তালপট্টি । ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপটি সমুদ্রে জেগে ওঠে । ২০১০ খ্রিস্টাব্দে দ্বীপটি ক্রমশ নিমজ্জিত হয়ে যায় । বর্তমানে কেবল ভাটার সময় দ্বীপটির অংশ বিশেষ দৃশ্যমান হয় ।
 ( গ ) ঘােড়ামারা দ্বীপ : হুগলি নদীর মােহানার নিকটবর্তী ক্ষুদ্র দ্বীপ ঘােড়ামারা । ১৯৭৫ – এ আয়তন ছিল ৮ .৫১ বর্গকিমি ; ২০১২ । খ্রিস্টাব্দে সামুদ্রিক ক্ষয়ে আয়তন কমে হয় ৪ . ৪৩ বর্গকিমি । । সমুদ্রজল পৃষ্ঠের উত্থানই এর কারণ বলে বিজ্ঞানীদের অনুমান ।

West Bengal Madhyamik Geography Suggestion | WBBSE Madhyamik Geography Qustion and Answer.

মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন | দশম শ্রেণীর ভূগোল – নদী –  ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর

         ” মাধ্যমিক  ভূগোল – নদী –  ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik / WB Madhyamik / MP Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Madhyamik Exam / Madhyamik Class 10th / Class X / Madhyamik Pariksha) এবং বিভিন্ন চাকরির (WBCS, WBSSC, RAIL, PSC, DEFENCE) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে BhugolShiksha.com এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ভূগোল পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (Madhyamik Geography Suggestion / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Geography Suggestion / Madhyamik Class 10th Geography Suggestion / Class X Geography Suggestion / Madhyamik Pariksha Geography Suggestion / Geography Madhyamik Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / Madhyamik Geography Suggestion FREE PDF Download) উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারেলাগলে, আমাদের প্রয়াস মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ভূগোল পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (Madhyamik Geography Suggestion / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Geography Suggestion / Madhyamik Class 10th Geography Suggestion / Class X Geography Suggestion / Madhyamik Pariksha Geography Suggestion / Madhyamik Geography Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / Madhyamik Geography Suggestion FREE PDF Download) সফল হবে।

    স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ডিজিটাল মাধ্যম BhugolShiksha.com । এর প্রধান উদ্দেশ্য পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) সমস্ত বিষয় এবং গ্রাজুয়েশনের শুধুমাত্র ভূগোল বিষয়কে  সহজ বাংলা ভাষায় আলোচনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কাছে সহজ করে তোলা। এছাড়াও সাধারণ-জ্ঞান, পরীক্ষা প্রস্তুতি, ভ্রমণ গাইড, আশ্চর্যজনক তথ্য, সফল ব্যাক্তিদের জীবনী, বিখ্যাত ব্যাক্তিদের উক্তি,  প্রাণী জ্ঞান, কম্পিউটার, বিজ্ঞান ও বিবিধ প্রবন্ধের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মননকে বিকশিত করে তোলা।
        আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের পােস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই ভূগোল শিক্ষা – BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকুন। ভূগোল বিষয়ে যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইট টি ফলাে করুন এবং নিজেকে  তথ্য সমৃদ্ধ করে তুলুন , ধন্যবাদ।
নিচের বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করেন বন্ধুদের মাঝে