অধ্যায়ঃ অঞ্চল / REGION | ভূগোল ( ভূগোল চিন্তার বিকাশ ) প্রশ্নোত্তর | Geographical Thought – Geography

2303

ভূগোল ( ভূগোল চিন্তার বিকাশ ) প্রশ্ন ও উত্তর | Geography – Geographical Thought – Question and Answer in Bengali

অধ্যায়ঃ অঞ্চল / REGION | ভূগোল ( ভূগোল চিন্তার বিকাশ ) প্রশ্নোত্তর | Geographical Thought - Geography

অধ্যায়ঃ অঞ্চল / REGION

Q. অঞ্চল( REGION ) ।

উত্তরঃ আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে বিশেষ করে ভূগােলে অঞল এক বহুল ব্যবহৃত শব্দ । সাধারণত অল বলতে বােঝায় বিশেষ গুণাবলী সম্পন্ন বিশেষ আয়তনের ভৌগােলিক এলাকা যা দিয়ে বিশেষ কোন উদ্দেশ্য সাধন করা সম্ভব । ভৌগােলিকদের কাছে অঞল হল এক বা একাধিক গুণবিশিষ্ট দৈশিক একক । সমধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি ভূ – খণ্ডটিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তােলে ।

Q. বহু উপাদান নির্ভর অঞ্চল ।

উত্তরঃ সংজ্ঞা : যখন কোন অঞ্চল একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তখন তাকে Multi Factor region বলে।
উদাহরণ : সাংস্কৃতিক অঞ্চল , নাগরীয় অঞ্চল । 
বৈশিষ্ট্য : i ) এতে বিভিন্ন উপাদানের সমধর্মী বিস্তৃতি প্রতিফলিত হয় । ii ) বিভিন্ন উপাদান বিস্তৃত থেকে সমধর্মী চরিত্র গঠনে কার্যকরী ভূমিকা নেয় । iii ) আঞ্চলিকতার সামগ্রিকতাকে প্রতিফলিত করে ।
উদাহরণসহ ব্যাখ্যা : Lirely ও Gregory সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিচার করতে গিয়ে এরূপ অঞলের কথা বলেন । তাদের মতে — সমধর্মীতার প্রশ্নে সমগ্র অণ্ডলের সাংস্কৃতিক উপাদানগুলাে একত্রে এক সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে ; বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক একটি বড় মাত্রায় উক্ত অঞ্চলের চরিত্র তুলে ধরে ।
যেমনঃ শতদ্রু পাঞ্জাব , উচ্চগঙ্গা ও মধ্যগঙ্গা সমভূমির মধ্যে সাংস্কৃতিক পার্থক্য দেখা যায় ; পাঞ্জাবী ও হিন্দি ভাষা এখানে আঞ্চলিক স্বকীয়তার সৃষ্টি করেছে । তবে প্রাকৃতিক ও আর্থ – সামাজিক উপাদানের মিল এখানে আঞ্চলিক সমধর্মীতার সৃষ্টি করেছে । এরূপ বহু – উপাদান নির্ভর অল ইউরােপের হিমবাহ সমভূমির কৃষি অঞলে দেখা যায় ।

Q. প্রাকৃতিক অঞ্চল ( Natural Region ) ।

উত্তরঃ সংজ্ঞা : পৃথিবীর যে নির্দিষ্ট অঞলে উয়তা , বৃষ্টিপাত , মৃত্তিকা , ভূ – প্রকৃতি প্রভৃতির উপর নির্ভর করে | যে উদ্ভিদ ও প্রাণীগােষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের ক্রিয়াকলাপ প্রায় সমধর্মী হয় , সেই নির্দিষ্ট এলাকাকে প্রাকৃতিক অঞ্চল বলে । হার্বাটসনের মতে “ An area of the earth surface which is essentially | Homogeneous with respect to the conditions that effect human life . 
বৈশিষ্ট্য : ( i ) প্রাকৃতিক অঞ্চল প্রায় সমধর্মী হয় ; প্রাকৃতিক অঞল আসলে জলবায়ু অঞ্চলের এক রূপ। ( ii ) প্রাকৃতিক অঞ্চলের নির্দিষ্ট কোন সীমারেখা নেই । ( iii ) প্রাকৃতিক অঞল রাজনৈতিক সীমায় আবদ্ধ নয় । ( iv ) একটি দেশে একাধিক প্রাকৃতিক অঞ্চল থাকতে পারে । যেমন — ভারতের দঃ পঃ ও উঃ পঃ ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক অঞ্চল আছে । ( v ) একটি প্রাকৃতিক অঞলে একাধিক দেশে থাকতে পারে । যেমন — পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের মৌসুমী অঞ্চল । ( vi ) একটি প্রাকৃতিক অঞ্চলের মধ্যে উপ – প্রাকৃতিক অঞ্চল থাকে । যেমন — ক্লান্তিয় অঞলের মধ্যেই আর্দ্র – ক্ৰান্তীয় মৌসুমী অঞ্চল ও শুষ্ক ক্রান্তীয় সাভানা অঞল দেখা যায় । ভৌগলিক গুরুত্ব ও প্রাকৃতিক অঞ্চল পাঠের মধ্য দিয়ে কোন প্রাকৃতিক অঞ্চলে কিভাবে মানুষ খাপ খাইয়ে তাদের জীবন প্রণালী গড়ে তুলেছে তা জানতে সাহায্যে করে ।

Q. শিল্প অঞ্চল ( Industrial Region ) ।

উত্তরঃ যখন কোন একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকায় একদেশীভবনের কারণে বিভিন্ন প্রধান , গৌণ , সহযােগী ও প্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পের একত্র সমাবেশ দেখা যায় , তখন একাধিক শিল্পযুক্ত অঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল বলে । গড়ে ওঠার কারণ ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল , কম পরিবহন ব্যয় , সমতল জমি , কাঁচামাল ও শিল্পজাত পণ্যের আমদানী রপ্তানিযুক্ত সুবিধা , মূলধন , সরকারী আনুকূল্য ও সুলভ দক্ষ শ্রমিকের প্রাচুর্যে এই অঞ্চল গড়ে ওঠে । 
বৈশিষ্ট্য : i ) এই রকম অঞলে শিল্পের সুন্দর পরিকাঠামাে থাকে । ii ) অঞ্চলটি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ হয় । iii ) যােগাযােগ ব্যবস্থার কেন্দ্রে গড়ে ওঠে । যেমন — টোকিও ইয়কোহামা , মস্কো – টুলা , শিকাগাে – গ্যারী অঞ্চল । 
অর্থনৈতিক : i ) মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায় । 
গুরুত্ব : i ) আনুষঙ্গিক এলাকায় অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটে । iii ) মানুষের জীবনযাপনের মান উন্নত হয় ।
কুফল : i ) কৃষিজমির আয়তন সঙ্কুচিত হয় । । ii ) পরিবেশ দূষণগ্রস্থ হয় । iii ) খুন , চুরি , ডাকাতি , ধর্ষণ , মদ্যপ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি , আত্মভােগ সর্বস্ব মানসিকতার দ্বারা সামাজিক অবক্ষয় ঘটে । উদাহরণ : ( i ) ডনেৎস শিল্পাঞ্চল , ( ii ) হ্রদ অঞ্চল , ( iii ) দূর্গাপুর ও আসানসােল শিল্পাঞ্চল ।

Q. ভাষা অঞ্চল ( Language Region ) । 

উত্তরঃ সংজ্ঞা : মানুষ – মানুষে মনের ভাব প্রকাশ ও বিনিময়কে ভাষা বলে । পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলেন । কেবলমাত্র ভারতেই ২২৫টির বেশী ভাষা আছে । যখন কোন একটি নির্দিষ্ট অঞলের মানুষ একটি নির্দিষ্ট ভাষায় কথা বলে তখন ওই ভাষাভাষীযুক্ত এলাকাকে ভাষা অঞ্চল বলে । 
প্রধান ভাষা অঞ্চল : ( i ) ইন্দো – ইউরােপীয়ান ; ( ii ) ইন্দো – ইরাণিয়ান ; ( iii ) সিনাে – টিবেতিয়ান ; ( iv ) অ্যাফ্রো – এশিয়ান ; ( v ) অস্ট্রো – এশিয়াটিক , ( vi ) অ্যামেরি – ইণ্ডিয়ান , ( vii ) নিগ্রো ভাষা অঞ্চল । 
বৈশিষ্ট্য : i ) একটি প্রধান ভাষা অঞলের মধ্যে বিভিন্ন উপভাষা অঞল তৈরী হয় । যেমন – বাংলা । ভাষার উপভাষা অঞল হল — বর্ধমান , হুগলী , বীরভূম ও বাঁকুড়ার কিয়দংশ নিয়ে । রাঢ় অঞ্চল ; কোচবিহার , জলপাইগুড়ি জেলার কিয়দংশ কামরূপী উপভাষা । ii ) একই ভাষা অঞ্চলের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐক্য বজায় থাকে । , যেমন — পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সাংস্কৃতিক ঐক্য । iii ) ভাষা অঞ্চল কোন রাজনৈতিক সীমায় আবদ্ধ নয় । যেমন — বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ , আসাম , ত্রিপুরার বাংলাভাষা অঞল । iv ) ভাষা অল রাজনৈতিক স্বায়ত্ব শাসনের ইচ্ছাকেও প্রকট করে । যেমন — গােখাল্যাণ্ড আন্দোলন একারণেই দানা বাঁধছে ।

Q. ক্রিয়ামূলক অঞ্চল ( Functional Region ) । 

উত্তরঃ অনেক ভৌগােলিকদের মতে অল সর্বদা সমধর্মী হবে এমন কোন কথা নেই , বরং অনেকগুলি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠবে একটি ক্রিয়ামূলক অঞ্চল । | বৈশিষ্ট্য : i ) এই এলাকাগুলি ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির হলেও একসঙ্গে সামগ্রিকভাবে কাজ করে । ii ) এই অঞল পরস্পরের প্রতি কিছুটা নির্ভরশীল । iii ) ক্রিয়ামূলক অঞলের বিভিন্ন অংশ একত্রে কাজ করে ।

Q. গ্রন্থি অঞ্চল ( Nodal Region ) । 

উত্তরঃ গ্রন্থি অঞল বলতে বােঝায় ক্রিয়ামূলক অলকে । বস্তুত কোন অঞলকে যে সমধর্মী হতেই হবে , তা ঠিক নয় । অনেক প্রকার বৈশিষ্ট্য নিয়ে গড়ে উঠবে একটিই গ্রন্থি অঞল যার মধ্যে সকল বৈশিষ্ট্যগুলি । একসঙ্গে সামগ্রিকভাবে ক্রিয়া করে । একে অনেক সময় মেরুকৃত অঞ্চল বলে অভিহিত করা হয় । বিষমধর্মী । কয়েকটি অংশ যেমন গ্রাম – শহর ; পর্বতের ঢাল ও সমভূমিতে এ ধরনের গ্রন্থি অঞল সৃষ্টি হয় ।

Q. বাহ্যিক ও ক্রিয়ামূলক অঞ্চলের উদাহরণসহ পার্থক্য । 

উত্তরঃ বাহ্যিক অঞ্চল : i ) বাহ্যিক অঞলের মধ্যে সর্বত্র সমভাবে একই বৈশিষ্ট্য বিরাজ করে । ii ) বাহ্যিক অঞলের গঠন সরলধর্মী । iii ) প্রাকৃতিক পরিবেশের স্থান গৌণ । iv ) এই অঞ্চল পরস্পরকে অতিক্রম করে না ।
ক্রিয়ামূলক অঞ্চল : i ) ক্রিয়ামূলক অঞলের এলাকাগুলি ভিন্ন ভিন্ন । প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য বিরাজ করে । ii ) ক্রিয়ামূলক অঞ্চলের গঠন জটিলধর্মী । iii ) প্রাকৃতিক পরিবেশের স্থান গৌণ । iv ) একত্রে পরস্পরকে অতিক্রম করে ।

Q. সংস্কৃতি ( Culture ) । 

উত্তরঃ সংস্কৃতি বলতে সাধারণ অর্থে বংশ , কূল , জাতি , শিল্পকলার আগ্রহ বােঝালেও সংস্কৃতি বলতে বােঝায় সমস্ত মানবিক গুণের সমাহার যার জন্য মানুষ প্রাণীকূলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ । সংস্কৃতির সংস্থা নিরূপণে E . B . Taylor – এর সংজ্ঞাটি প্রনিধানযােগ্য । তিনি বলেছেন , “ সমাজের সদস্য হিসাবে মানুষের যে সামগ্রিক বিশ্বাস , নীতি , নিয়মরীতি এবং অন্যান্য সক্ষমতা ও অভ্যাস অর্জন করে তাই হল সংস্কৃতি । ”

Q. সামাজিক অল ( Social reagion ) ।

উত্তরঃ সামাজিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যবস্থা , লভ্যাংশ , বন্টন , উৎপন্নজাত পণ্যের বন্টন , ভােগ , উৎপাদন সম্পর্ক থেকে বিচার করা হয় । এর সাথে সামাজিক স্থিতি ও সংস্কৃতি ; মানবীয় উপাদান ও আর্থ – সামাজিক মেটল পদ্ধতির দ্বারাও এরূপ অঞ্চল নির্ধারিত হয় ।
     Burgen আর্থ – সামাজিক ও উৎপাদন ক্রিয়া অনুসারে সামাজিক অঙল নিরূপণের কথা বলেছেন । তার মতে শহরে : ( i ) উচ্চবিত্ত বসতি অল ; ( ii ) মধ্যবিত্ত বসতি অল ; ( iii ) নিম্নবিত্ত বসতি বা ঘেটো অঞল এক একটি সামাজিক অঞলের প্রতিফলন ।
     তিনি এক একটি পূর্ণ সামাজিক অঞ্চল হিসাবে বলেছেন শিল্প অণ্ডলে নৈশ বসবাসকারী সংখ্যা কম হয় , জনগােষ্ঠির কৌমগঠন অনুসারে শিকাগােতে ইতালীয় / নিগ্রো / শেতাঙ্গ ইউরােপীয় / আমেরিকান বসতি সামাজিক অঞ্চল নিরূপণ করা যায় । ভারতেও এ ধরনের নিম্ন ও উচ্চ জাতির বসতিযুক্ত সামাজিক অঞল লক্ষ্য করা যায় ।

Q. সংস্কৃতির ব্যাপন ( Cultural Diffusion ) । 

উত্তরঃ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি একবিন্দু থেকে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে । অন্যভাবে বলা যেতে পারে , নতুন কোন উদ্ভাবন অর্থাৎ , সংস্কৃতির দৈশিক বিস্তারকে সাংস্কৃতিক ব্যাপন বলে । নিত্য নতুন আবিষ্কার এক জায়গা থেকে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ছে সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে । একে সংস্কৃতির ব্যাপন বলে ।

Q. সাংস্কৃতিক ভূ – দৃশ্য ( Cultural Landscape ) ।

উত্তরঃ ভৌগােলিক ওয়েগনার ও মাইক সেল সাংস্কৃতিক ভূ – দৃশ্যকে সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানগুলির পারস্পরিক সংযােগের ফলাফল হিসাবে বর্ণনা করেন । সাংস্কৃতিক ভূ – দৃশ্যপ্রাথমিকভাবে প্রাকৃতিক ভূ – দৃশ্যের উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে । পরবর্তী পর্যায়ে মানুষের শ্রম , প্রয়ােজনীয়তা এবং আর্থিক সঙ্গতি ঐ ভূ – দৃশ্যকে আমূল পরিবর্তন করে । 
উদাহরণসহ ব্যাখ্যা : উনবিংশ শতাব্দীর জাপান অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের সহায়তায় প্রধানত ধান , রেশম চাষের উপর নির্ভর ছিল । কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রযুক্তি ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে এক অতি আধুনিক ধনী অগ্রণী দেশে পরিণত হয়েছে । জীৱৰ লভচ কলমীত ভীষ । 

Q. সাংস্কৃতিক অগ্নিশরণ ( Cultural Hearth ) ।

উত্তরঃ ভূ – পৃষ্ঠের কোন বিশেষ এলাকায় কোন বিশেষ সাংস্কৃতিক গােষ্ঠীর দ্বারা উদ্ভাবিত সামাজিক চেতনার উন্মেষ এবং অর্থনৈতিক উন্নতির প্রচেষ্টাকে Cultural Hearth বলে । Carl , Sauer সাংস্কৃতিক অগ্নিশরণগুলিকে সাংস্কৃতিক গােষ্ঠী গড়ে তােলার জন্য ক্ষেত্ররূপে বর্ণনা করেছেন । বিশ্বের যে সমস্ত অঞ্চলে সংস্কৃতির আদি , কেন্দ্রগুলি জন্ম নিয়েছিল সেগুলি হল — ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী ক্রীট , নীল উপত্যকা , সিন্ধু উপত্যকা ও মেসােপটেমিয়া অঞ্চল ।

Q. পরিকল্পনা অঞল ( Planning Region ) ।

উত্তরঃ প্রকল্প অঞল হল ভূ – পৃষ্ঠের কোন স্থানের সেই বিশেষ ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতি যা সেখানের পরিকল্পনা রূপায়ণের অবস্থা একই রকমের হয়ে থাকে । 
    Glasson – এর মতে একটি প্রকল্প অঞলের মধ্যে পরিকল্পনার প্রয়ােজনীয়তা এইরূপ হবে ; এবং তার সমচরিত্রের প্রয়ােজনীয়তা বিচার করে কার্যকরী ব্যবস্থারূপে কোন প্রকল্প অঞ্চলের সীমা নির্ধারিত হয় । 
     প্রত্যেকটি প্রকল্প অঞল পৃথক পৃথক উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয় । ফলে প্রকল্প অলগুলির মধ্যে চরিত্র ও ব্যাপ্তিজনিত কিছু পার্থক্যও থাকে ; যেমন – Smith একটি কৃষি প্রকল্প অলের মধ্যে কিছু চারিত্রিক । পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন । 
উদাহরণ : কৃষি প্রকল্প অঞলের সীমা ও চরিত্র তার সেচের প্রয়ােজনীয়তা , মূলধনের সম্ভাবনা , ক্ষেত্র ও কষিজাত বাজারের ভিত্তিতে গড়ে উঠে ।
    আবার পর্যটন প্রকল্পে পরিকাঠামােগত পরিকল্পনার দরকার হয়ে থাকে ।

Q. সহযােগী অঞ্চল ( Compage region ) । 

উত্তরঃ ভৌগােলিক আলােচনায় ‘ অঞ্চল ’ কিভাবে চিহ্নিত হবে তা নিয়ে ভৌগােলিকরা দ্বিমত হন । কোন অঞল বাহ্যিক না ক্রিয়ামূলক , এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে কিছু ভৌগােলিক বললেন , একটি পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ারত পূর্ণাঙ্গ অঞল । বিজ্ঞানী লুইটলাস সর্বপ্রথম COMPAGE কথাটি ব্যবহার করেন । COMPAGE হচ্ছে সর্বাঙ্গীণ গুণসম্পন্ন সামগ্রিক অঞ্চল । 

Q. দূরত্ব । 

উত্তরঃ দুরত্ব সাধারণত তিন প্রকার । যথা — Time Distance , Geographical Distance ও Coast, Distance .
 ( A ) Time Distance : কোন স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে যত সময় লাগে তা হল Time Distance . ( B ) Geographical Distance : কোন স্থান থেকে ভৌগােলিক পার্থক্য Geographical Distance : ( C ) Cost Distance : এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে যত টাকা লাগে তা হল Cost Distance.

INFO : Geography – Geographical Thought – Question and Answer | ভূগোল – ভূগোল চিন্তার বিকাশ – অধ্যায়ঃ অঞ্চল / REGION – প্রশ্নোত্তর

         ” ভূগোল ( ভূগোল চিন্তার বিকাশ – অধ্যায়ঃ অঞ্চল / REGION ) “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক বিভিন্ন শ্রেনীর পরীক্ষা (Class 5, 6, 7, 8, 9,  Madhyamik, Higher Secondary – HS, College & University Exam) এবং বিভিন্ন চাকরির (WBCS, WBSSC) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে BhugolShiksha.com এর পক্ষ থেকে ভূগোল পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নো ও উত্তর উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  ভূগোল Geography ( ভূগোল চিন্তার বিকাশ – অধ্যায়ঃ অঞ্চল / REGION / সংক্ষিপ্ত ছোট প্রশ্ন ও উত্তর / SAQ / Short Question and Answer / QNA / FREE PDF Download ) পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর সফল হবে।

Source : Bhugolika

    স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ডিজিটাল মাধ্যম BhugolShiksha.com । এর প্রধান উদ্দেশ্য পঞ্চম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী, মাধ্যমিকউচ্চ মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় এবং গ্রাজুয়েশনের শুধুমাত্র ভূগোল বিষয়কে  সহজ বাংলা ভাষায় আলোচনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কাছে সহজ করে তোলা। 

        আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের পােস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই আমাদের ভূগোল শিক্ষা – Bhugol Shiksha – BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকুন। ভূগোল বিষয়ে যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইটটি ফলাে করুন এবং নিজেকে ভৌগোলিক  তথ্য সমৃদ্ধ করে তুলুন , ধন্যবাদ।

নিচের বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করেন বন্ধুদের মাঝে