ডাঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann Biography in Bengali

7
ডাঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী - Dr. Hahnemann Biography in Bengali
ডাঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী - Dr. Hahnemann Biography in Bengali

ডাঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann Biography in Bengali

ডাঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann Biography in Bengali : স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (Samuel Hahnemann) নিজেকে কখনও হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির আবিষ্কারক দাবি করেননি। তবে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, হ্যানিম্যানই প্রথম ব্যক্তি, যিনি সদৃশবিধানের ওপর ভিত্তি করে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক এ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রবর্তন করেছিলেন।

প্রচলিত সব চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে এর নীতি ও প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তাই ডঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (Dr. Samuel Hahnemann) নিঃসন্দেহে প্রচলিত হোমিওপ্যাথির জনক।

প্রায় চার শতাব্দী পূর্বের প্রটেস্টান্ট ধর্মের প্রবর্তক ও জার্মান দেশীয় ধর্মযাজক মার্টিন লুথারের মতন হ্যানিম্যানকে তৎকালীন গোঁড়া চিকিৎসকদের চিকিৎসা পদ্ধতির নানা প্রকার ভ্রম, কুসংস্কার ও মতবাদের বিরুদ্ধে একাকি দাঁড়াতে হয়েছিল। এজন্য ডঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যানকে (Dr. Samuel Hahnemann) অনেক লাঞ্ছনা, অনেক নিগ্রহ আর দুঃখ ভোগ করতে হয়েছিল।

 প্রাতঃস্মরণীয়া বিজ্ঞানী ডঃ হ্যানিম্যান এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । ডঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann Biography in Bengali বা ডঃ হ্যানিম্যান এর আত্মজীবনী বা ডঃ হ্যানিম্যান এর (Dr. Hahnemann Jivani Bangla. A short biography of Dr. Hahnemann. Dr. Hahnemann Birth, Place, Life Story, Life History, Biography in Bengali) জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ডঃ হ্যানিম্যান কে ছিলেন ? Who is Dr. Hahnemann ?

 চিকিৎসাবিজ্ঞানে “The Father of modern psychiatry”, “The Father of Experimental Pharmacology” এবং “Human drug trials” ও ব্যবহারিকভাবে “Double-blind Trial” এর প্রবর্তক ডা. ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডরিখ স্যামুয়েল হ্যানিমান (MD)। আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে ডঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যানই (Dr. Samuel Hahnemann) সর্বপ্রথম আদর্শ “Mental Asylum” প্রতিষ্ঠাকারী ও ‘মানসিক রোগ চিকিৎসার আধুনিক গাইডলাইন ও আরোগ্যকারী চিকিৎসাপদ্ধতি’ প্রদানকারী। অপরিসীম মেধা, ধৈর্য্য, অধ্যবসায় ও ধীশক্তির অধিকারী এই প্রডিজি ছিলেন একাধারে আজ অব্দি স্মরণীয় কেমিস্ট, বহুভাষাবিদ, যুগান্তকারী চিকিৎসক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী।

ডঃ হ্যানিম্যান বা স্যামুয়েল হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann or Samuel Hahnemann Biography in Bengali :

নাম (Name) ডঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (Dr. Samuel Hahnemann)
জন্ম (Birthday) ১০ এপ্রিল ১৭৫৫ (10th April 1755)
জন্মস্থান (Birthplace) জার্মান
অভিভাবক (Parents)/পিতামাতা ক্রিশ্চিয়ান গটফ্রিড হ্যানিম্যান (পিতা)

জোহানা ক্রিশ্চিয়ানা (মাতা)

জাতীয়তা জার্মান
কর্মক্ষেত্র হোমিপ্যাথি
দাম্পত্য সঙ্গী (Spouse) জোহনা হেনরিয়েটি লিওপোলডিনি কুসলার (প্রথম)

মাদাম মেরী মেলানী ডি. হারভিলী (দ্বিতীয়)

মৃত্যু (Death) ২ জুলাই ১৮৪৩ (2nd July 1843)

ডঃ হ্যানিম্যান – Dr. Hahnemann :

 ডাঃ হ্যানিম্যান একটি বিশ্ববিখ্যাত নাম । তার নাম আজ আর শনারো অজানা নয় । তিনি হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির শিক্ষারক ও প্রবর্তক হিসাবে ইতিহাসে চির অমর হয়ে থাকবেন । তার চিকিৎসা – পদ্ধতি আজ পৃথিবীর দেশে – দেশে গৌরবের সাথে প্রচলিত । 

ডঃ হ্যানিম্যান এর জন্ম – Dr. Hahnemann Birthday :

 ওঃ হ্যানিমানের পুরাে নাম ডাঃ স্যামুয়েল ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডারিক হ্যানিম্যান । তিনি ১৭৫৫ খ্রীস্টাব্দের ১০ ই এপ্রিল জার্মানীর ম্যানি । প্রদেশে জন্মগ্রহন করেন ।

ডঃ হ্যানিম্যান এর শৈশবকাল – Dr. Hahnemann Childhood :

 ডাঃ হ্যানিম্যানের ছােটবেলা থেকেই বই পড়ার খুব নেশা ছিলাে । তিনি হাতের কাছে যা পেতেন খুঁজে খুঁজে তাই পড়ে যেতেন । একদিন ভিয়েনায় তার পরিচয় হয় ‘ ট্রানসিলভেনিয়ার গভর্নরের সঙ্গে । গরের একটা ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার ছিলাে । হ্যানিম্যানের বই পড়ার নেশা প্রবল দেখে তিনি তার গ্রন্থাগারটা দেখাশুনার ভার হ্যানিম্যানের উপর ছেড়ে দিলেন । হ্যানিম্যান মনের আনন্দে পড়াশুনার মধ্যে ডুবে রইলেন । পৃথিবীর প্রধান প্রধান ভাষাগুলােও শিখে ফেললেন । চিকিৎসাশাস্ত্রের উপর যতাে বই পেলেন সবই বার – বার পড়তে লাগলেন ।

হ্যানিম্যান এর চিকিৎসাশাস্ত্রে গবেষণা ও এম ডি উপাধি : 

 ভিয়েনায় এই চিকিৎসাশাস্ত্রের উপর পড়াশুনা করতে করতে তার মধ্যে একটা ঝোক দেখা দিলাে । সেটা হচ্ছে চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে গবেষণা করা । তিনি গবেষণা করতে করতে ভাবলেন তিনি একটা নতুন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করবেন । তিনি মনের ইচ্ছাটা । গভীর সাহেবকে খুলে বললেন । গভর্নর তার জন্য সব ব্যবস্থা করে দিলেন । দেখতে দেখতে হ্যানিম্যানের নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লাে । ১৭৭৯ সালে এরমগেন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানিত করে এম ডি উপাধি দিয়ে ।

হ্যানিম্যান এর বিবাহ জীবন – Hahnemann Marriage Life :

 ১৭৮২ সালে হ্যানিম্যান ট্রানসিলভেনিয়ায় থেকে গবেষণা করছিলেন । ঐ বছর তিনি বিয়ে করেন । চিকিৎসাশাস্ত্রে উন্নতি করার জন্য তিনি ড্রেসডেন শহরে চলে আসেন । ড্রেসডেন শহরে এসে তিনি দিনরাত গবেষণার কাজে ব্যস্ত থাকলেন ।

হ্যানিম্যান এর কর্মজীবন : Hahnemann Work Life :

 প্রথম দিকে তার গবেষণার বিষয়বস্তু ছিলাে ভেষজ ও আর্সেনিক বা সেঁকোব্যি । পরে তার গবেষণার বিষয়বস্তু সব বই আকারে বের হয় । এই বইটি খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে । দেশ – বিদেশের বিদগ্ধজনেরাও জ্ঞানী – গুণীরা বইটির খুব প্রশংসা করেন । ফলে ডাঃ হ্যানিম্যানের নাম চারিদিকে আরাে ছড়িয়ে পড়তে লাগলাে । 

 হ্যানিম্যানের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ালাে বনে – জঙ্গলে ঘুরে – ঘুরে নানারকম ভেষজ যােগাড় করা , আর সারারাত ধরে সেসব পরীক্ষা । করা । তিনি একদিন তার দু’চারজন বন্ধুকে অনুরােধ করে সিনকোনা । গাছের ছাল খাওয়ালেন । দেখা গেল প্রত্যেকেরই কাপনি দিয়ে জুর এলাে । এবার ডাঃ হ্যানিম্যান সিদ্ধান্তে এলেন , যে রােগের প্রতিষেধক সেই ভেষজকে সুস্থ দেহে প্রয়ােগ করলে সেই রােগ লক্ষণ দেখা যাবে । দীর্ঘ ৮ বছর গবেষণার পর তিনি এই সূত্রটি পেলেন ।

[আরও দেখুন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনী – Rabindranath Tagore Biography in Bengali]

হ্যানিম্যান এর বই প্রকাশ – Hahnemann Books Published :

 ১৭৯০ থেকে ১৮১১ সাল পর্যন্ত গবেষণা করে হ্যানিম্যান । সঠিকভাবে বুঝতে পারলেন , যে ওষুধের দ্বারা রােগ সারে সেই ওষুধকে যদি সুস্থ শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় তাহলে তার মধ্যে সেই রােগেরই প্রকাশ পাবে । দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় হ্যানিম্যান ‘ ল অব সিমিলারস ’ নামে একটা বই বের করলেন । ‘ অর্গানন ‘ বইটা প্রকাশ পায় ১৮১০ সালে । আর ‘ মেটোরিয়ামেডিকা ‘ বইটি প্রকাশ পায় ১৮১১ সালে । 

হ্যানিম্যান এর হোমিপ্যাথি – Hahnemann Homoeopathic :

 হ্যানিম্যানের আবিষ্কৃত চিকিৎসা পদ্ধতিকে হােমিওপ্যাথিক বলে । হ্যানিম্যান তার এই চিকিৎসাপদ্ধতি প্রচার করার ক্ষেত্রে এ্যালােপ্যাথিক চিকিৎসকদের দ্বারা বহু বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন । কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হয়েছিলেন । তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতি তিনি গুণীজনদের অনেককেই বােঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন । আজ হােমিওপ্যাথি একটি স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি । এই পদ্ধতিতে আজ অনেক জটিল কঠিন রােগ নিরাময় হয়ে থাকে । পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশ তার এই চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করেছে ।

হ্যানিম্যান এর দ্বিতীয় বিবাহ – Hahnemann 2nd Marriage :

 প্রথম স্ত্রী মারা যাবার পর হ্যানিম্যান এক ফরাসী বিদুষী মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন । বিয়ের পর থেকে হ্যানিম্যান ফ্রান্সেই বসবাস করতে থাকেন । 

হ্যানিম্যান এর মৃত্যু – Hahnemann Death :

 ১৮৪৩ খ্রীষ্টাব্দের ২ রা জুলাই এই মানবতাবাদী মহান বিজ্ঞানী ৮৮ বছর বয়সে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন ।

ডঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Dr. Hahnemann Biography in Bengali (FAQ):

  1. ডঃ হ্যানিম্যান এর জন্ম কবে হয় ?

Ans: ১০ এপ্রিল ১৭৫৫ সালে ।

  1. ডঃ হ্যানিম্যান এর পিতার নাম কী ?

Ans: ক্রিশ্চিয়ান গটফ্রিড হ্যানিম্যান ।

  1. ডঃ হ্যানিম্যান এর মাতার নাম কী ?

Ans: জোহানা ক্রিশ্চিয়ানা ।

  1. ডঃ হ্যানিম্যান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন ?

Ans: জার্মান দেশে ।

  1. ডঃ হ্যানিম্যান এর প্রথম স্ত্রীর নাম কী ?

Ans: জোহনা হেনরিয়েটি লিওপোলডিনি কুসলার ।

  1. হোমিপ্যাথির আবিষ্কারক কে ?

Ans: ডঃ হ্যানিম্যান ।

  1. ডঃ হ্যানিম্যান এর পুরো নাম কী ?

Ans: স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ।

  1. ডঃ হ্যানিম্যান এর বই গুলির নাম কী ?

Ans: ‘ ল অব সিমিলারস ’, ‘ অর্গানন ‘, ‘ মেটোরিয়ামেডিকা ‘ ইত্যাদি ।

  1. ডঃ হ্যানিম্যান কবে জন্মগ্রহণ করেন ?

Ans: ১০ এপ্রিল ১৭৫৫ সালে ।

  1. ডঃ হ্যানিম্যান কবে মারা যান ?

Ans: ১৮৪৩ খ্রীষ্টাব্দের ২ রা জুলাই ।

[আরও দেখুন, জহরলাল নেহেরু জীবনী – Jawaharlal Nehru Biography in Bengali

আরও দেখুন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী – Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali

আরও দেখুন, পন্ডিত রবিশঙ্কর এর জীবনী – Ravi Shankar Biography in Bengali

আরও দেখুন, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর জীবনী – SurendraNath Banerjee Biography in Bengali

আরও দেখুন, রাসবিহারী বসুর জীবনী – Rash Behari Bose Biography in Bengali]

ডঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann Biography in Bengali

   অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই ” ডঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann Biography in Bengali  ” পােস্টটি পড়ার জন্য। ডঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann Biography in Bengali পড়ে কেমন লাগলো কমেন্টে জানাও। আশা করি এই ডঃ হ্যানিম্যান এর জীবনী – Dr. Hahnemann Biography in Bengali পোস্টটি থেকে উপকৃত হবে। এই ভাবেই BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকো যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইট টি ফলাে করো এবং নিজেকে  তথ্য সমৃদ্ধ করে তোলো , ধন্যবাদ।