মাদাম কুরীর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali

2
মাদাম কুরীর জীবনী - Marie Curie Biography in Bengali
মাদাম কুরীর জীবনী - Marie Curie Biography in Bengali

মাদাম কুরীর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali

মাদাম কুরীর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali : মাদাম কুরী একবার নয় , দু’বার বিজ্ঞান গবেষণায় অনন্যসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে মহীয়সী নারী নােবেল পুরস্কারে ধন্য হয়েছিলেন , তিনি হলেন মাদাম কুরী । বিশ্বের কোনাে নারীর ভাগ্যে এমনটি আর ঘটেনি । এমন কি দু’বার নােবেল পুরস্কার পেয়েছেন একই ক্ষেত্রে , এমন নজির বিশ্বে বিরল । এ জন্যে তাকেসর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয়ে থাকে ।

 জীবনের শুরুতে দুঃখ দারিদ্র্য আর প্রিয় ব্যক্তিকে কাছে পাওয়ার মর্মবেদনায় যিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন , বলেছিলেন এই ঘৃণিত পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে ক্ষতি খুব সামান্যই হবে — সেই অভিমানী তরুণীটিই নিজের প্রচেষ্টায় পরবর্তীকালে হয়েছিলেন জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং বিশ্বের সর্বকালের সেরা মানুষদের একজন ।

 প্রাতঃস্মরণীয়া বিজ্ঞানী মাদাম কুরী এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । মাদাম কুরী এর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali বা মাদাম কুরী এর আত্মজীবনী বা মাদাম কুরী এর (Marie Curie Jivani Bangla. A short biography of Marie Curie. Marie Curie Birth, Place, Life Story, Life History, Biography in Bengali) জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

মাদাম কুরী কে ছিলেন ? Who is Marie Curie ?

মাদাম কুরী (Marie Curie) ছিলেন প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এই পোলীয় ও ফরাসি বিজ্ঞানী ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তার উপর গবেষণার জন্য তার স্বামী পিয়ের ক্যুরি এবং তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক অঁরি বেকেরেলের সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। মাদাম কুরী (Marie Curie) ছিলেন প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি বিজ্ঞানের দুইটি ভিন্ন শাখায় দুইবার নোবেল পুরস্কার জেতেন। মাদাম কুরী (Marie Curie) প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রথম মহিলা অধ্যাপক ছিলেন এবং তিনই ছিলেন প্রথম মহিলা যার অসামান্য মেধার কারণে ১৯৯৫ সালে প্যান্থিয়নে সমাহিত করা হয়।

প্রাতঃস্মরণীয়া বিজ্ঞানী মাদাম কুরীর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali :

নাম (Name) ম্যেরি কুরী বা মাদাম কুরী (Marie Curie)
জন্ম (Birthday) ৭ নভেম্বর ১৮৬৭ (7th November 1867)
জন্মস্থান (Birthplace) ওয়ারশ, পলেন্ড 
অভিভাবক (Parents)/পিতামাতা ভাদিশ্লাভ স্কেলাডােভস্কি (পিতা)

নী বগুস্কা (মাতা)

জাতীয়তা পোলীয়, ফরাসি 
কর্মক্ষেত্র পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়ন
প্রতিষ্ঠান সর্বন 
পরিচিতির কারণ তেজস্ক্রিয়তা
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (১৯০৩)

 রসায়নে নোবেল পুরস্কার (১৯১১)

মৃত্যু (Death) ৪ জুলাই ১৯৩৪ (4th July 1934)

মাদাম কুরীর জন্ম – Marie Curie Birthday :

 এই প্রাতঃস্মরণীয় বিজ্ঞানী , সর্বকালের সেরা নারী মাদাম কুরী ১৮৬৭ সালের ৭ ই নভেম্বর পােল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ শহরে জন্মগ্রহণ করেন । 

মাদাম কুরীর পিতামাতা – Marie Curie Parents :

 তার পিতা ভাদিশ্লাভ স্কেলাডােভস্কি ছিলেন একজন শিক্ষক । মাও ছিলেন স্থানীয় একটি গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা এবং পরিচালিকা । মাদাম কুরীর আসল নাম ম্যেরী কুরী । 

মাদাম কুরীর শৈশবকাল – Marie Curie Childhood :

 ম্যেরী কুরীর যখন দশ বছর বয়স , তখন তার মা যক্ষারােগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান । মেয়েও যক্ষায় আক্রান্ত হতে পারে , এই ভয়ে তার বাবা তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন । 

 গ্রামের বাড়িতে এক বছর থাকার পর ম্যেরী কুরী আবার ওয়ারশয় ফিরে এলেন । ইতিমধ্যে তিনি স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন । ছােটবেলা থেকেই তার পরিবারের সবাই খুব মেধাবী ছিলেন ।

মাদাম কুরীর কর্মজীবন – Marie Curie Work Life :

 আর্থিক অবস্থা তাদের খুব খারাপ ছিলাে বলে ম্যেরী কুরী প্রথমে এক রাশিয়ানের বাসায় গভর্নেসের চাকরি নেন । কিন্তু রাশিয়ান গৃহকত্রী বদমেজাজী হওয়ায় ১৮৬৬ সালে আর এক বাড়িতে তিনি চাকরি নেন । এখানেই গৃহকর্তার ছেলের সাথে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে উঠে ।

মাদাম কুরীর যৌবনকাল – Marie Curie Youth :

 কিন্তু ছেলের মা একজন গভর্নেসের সাথে ছেলের বিয়ে দিতে রাজী না হওয়ায় মেরী মানসিকভাবে দারুণ আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং গােটা জীবন সম্পর্কে নেমে আসে গভীর হতাশা । এই সময়ের এক চিঠিতে তিনি তাই লিখেছেন । ‘ এই ঘৃণিত পৃথিবী থেকে আমি বিদায় নিতে চাই । এতে ক্ষতি হবে খুব সামান্যই । 

মাদাম কুরীর শিক্ষাজীবন – Marie Curie Education Life :

 এরপর মেরী প্যারিসের সারবােন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানে ভর্তি হন বড়বােন ব্রোনিয়ার উপর ভরসা করে তার জীবনে পরিপূর্ণ । করে গড়ে তােলার জন্য একটা নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌছে দেওয়ার জন্যে নামলেন একান্ত সাধনায় ।

মাদাম কুরীর কলেজ জীবন – Marie Curie College Life :

 তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গবেষণাগারে নির্জনতায় কাটাতে লাগলেন দিনের পর দিন । অর্থাভাবে এ সময় তাকে আধপেটা রুটি মাখন খেয়ে কাটাতে হতাে । তবু তিনি ১৮৯৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম স্থান অধিকার করে এম . এসসি . পাস করেন । পরের বছর একই ডিগ্রীতে তিনি ২ য় স্থান অধিকার করেন ।

মাদাম কুরীর বিবাহ জীবন – Marie Curie Marriage Life :

 মাদাম কুরী প্যারিস সফররত তার পূর্বপরিচিত পােলিশ অধ্যাপক কোভ্যলস্কির মাধ্যমে ফরাসি তরুণ বিজ্ঞানী পিয়েরী কুরীর সঙ্গে পরিচিত হন । মেরীর সাথে প্রথম আলাপেই পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানের প্রতিভাবান বিজ্ঞানী পিয়েরী কুরী মুগ্ধ হয়ে যান । তারা দু’জনে অধ্যাপক শুৎজেন বাজারের গবেষণাগারে গবেষণা করার অনুমােদন পান । ক্রমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেএবং তারা এক সময় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

মাদাম কুরীর আবিষ্কার – Marie Curie Invention :

 এই বিজ্ঞানী দম্পতি একটানা দু’বছর গবেষণার পর যৌগিক উপাদান ‘ বিসমার্ক আবিষ্কার করেন । আর বিসমার্ককে আরাে শােধন করতে গিয়ে ১৮৯৬ সালে আবিষ্কার করেন পােলােনিয়াম । আরাে গবেষণা করে তারা এক অত্যাশ্চর্য পদার্থ আবিষ্কার করলেন, নাম রাখলেন রেডিয়াম । এই রেডিয়াম সত্যি এক অদ্ভুত উপাদান ইউরেনিয়াম থেকে ১০ লাখ গুণ তেজস্ক্রিয়তাসম্পন্ন ।

[আরও দেখুন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনী – Rabindranath Tagore Biography in Bengali]

মাদাম কুরীর পুরস্কার – Marie Curie Prizes :

 এই অত্যাশ্চর্য আবিষ্কারের জন্য লন্ডনের রয়াল সােসাইটি কুরী দম্পতিকে ১৯০৩ সালে ডেভি পদকে ভূষিত করে । এই ১৯০৩ সালেই মাদাম কুরী বিজ্ঞানী হেনরি বেকোয়েরেলের সাথে যুগ্মভাবে নােবেল পুরস্কার লাভ করেন ।

মাদাম কুরী এর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার :

 ১৯০৬ সালে স্বামী পিয়েরী কুরী এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন । স্বামীর অকাল প্রয়াণে মাদাম কুরীর হৃদয় ভেঙে যায় । কিন্তু বিজ্ঞান গবেষণার অব্যাহত থাকে । তিনি ১৯১০ সালে একক প্রচেষ্টায় বিশুদ্ধ অবস্থায় রেডিয়ামকে পৃথক করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন । এই কৃতিত্বের জন্য তিনি এককভাবে দ্বিতীয়বারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নােবেল পুরস্কার লাভ করে অনন্যসাধারণ কৃতিত্ব দেখান ।

মাদাম কুরীর মৃত্যু – Marie Curie Death :

 স্বামীর শােক এবং দীর্ঘদিনের একটানা পরিশ্রমে মাদাম কুরীর শরীর ভেঙে পড়ে । ১৯৩৪ সালের মে মাসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এর দু’মাস পরেই জুলাই মাসে ৬৭ বছর বয়সে পরলােক গমন করেন । জানা যায় , রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয়তাই তার অকাল মৃত্যুর কারণ ছিলাে । 

 বিশ্বের বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই মহীয়সী নারীর নাম চিরস্মরণীয় শুধু তাই নয় , প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবে ।

মাদাম কুরীর জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Marie Curie Biography in Bengali (FAQ):

  1. মাদাম কুরীর জন্ম কবে হয় ?

Ans. নভেম্বর ৭ ১৮৬৭ সালে ।

  1. মাদাম কুরীর পিতার নাম কী ?

Ans. ভাদিশ্লাভ স্কেলাডােভস্কি ।

  1. মাদাম কুরীর মায়ের নাম কী ?

Ans. নী বগুস্কা ।

  1. মাদাম কুরীর জন্ম কোথায় হয় ?

Ans. পোল্যান্ড এর ওয়ারশ শহরে ।

  1. মাদাম কুরী কে ছিলেন ?

Ans. তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক ।

  1. মাদাম কুরী কবে নোবেল পুরস্কার পান ?

Ans. ১৯০৩ সালে ।

  1. মাদাম কুরী কবে রসায়ন বিজ্ঞান নোবেল পুরস্কার পান ?

Ans. ১৯১১ সালে ।

  1. মাদাম কুরীর স্বামীর নাম কী ?

Ans. পিয়েরী কুরী ।

  1. মাদাম কুরী কবে জন্মগ্রহণ করেন?

Ans. নভেম্বর ৭ ১৮৬৭ সালে ।

  1. মাদাম কুরীর মৃত্যু কবে হয় ?

Ans. ৪ জুলাই ১৯৩৪ সালে ।

[আরও দেখুন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী – Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali

আরও দেখুন, পন্ডিত রবিশঙ্কর এর জীবনী – Ravi Shankar Biography in Bengali

আরও দেখুন, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর জীবনী – SurendraNath Banerjee Biography in Bengali

আরও দেখুন, রাসবিহারী বসুর জীবনী – Rash Behari Bose Biography in Bengali

আরও দেখুন, জহরলাল নেহেরু জীবনী – Jawaharlal Nehru Biography in Bengali]

মাদাম কুরী এর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali

   অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই ” মাদাম কুরী এর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali  ” পােস্টটি পড়ার জন্য। মাদাম কুরী এর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali পড়ে কেমন লাগলো কমেন্টে জানাও। আশা করি এই মাদাম কুরী এর জীবনী – Marie Curie Biography in Bengali পোস্টটি থেকে উপকৃত হবে। এই ভাবেই BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকো যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইট টি ফলাে করো এবং নিজেকে  তথ্য সমৃদ্ধ করে তোলো , ধন্যবাদ।