এডমন্ড হ্যালির জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali

4
এডমন্ড হ্যালির জীবনী - Edmond Halley Biography in Bengali
এডমন্ড হ্যালির জীবনী - Edmond Halley Biography in Bengali

এডমন্ড হ্যালির জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali

এডমন্ড হ্যালির জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali : হ্যালির ধূমকেতু আবিষ্কার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এডমন্ড হ্যালি অমর হয়ে আছেন । সৌরজগতের গ্রহ – উপগ্রহের সাথে আরাে এক ধরনের জ্যোতিষ্ক আছে । এগুলাের নাম ধূমকেতু । এরাও সূর্যকে ঘিরে নিজ – নিজ কক্ষপথে ঘুরে বেড়ায় । এই ধূমকেতুদের মধ্যে যেটা সবচেয়ে বিখ্যাত তার নাম হ্যালির ধূমকেতু ‘ । এই ধূমকেতুটি প্রতি ৭৬ বছর পর পর একবার করে আকাশে উদিত হয় । অর্থাৎ প্রতি ৭৬ বছরে একবার করে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে । হ্যালির ধূমকেতুটি সর্বশেষ আকাশে উদিত হয়েছিলাে ১৯৮৭ সনে । আবার দেখা যাবে ৭৬ বছর পরে ২০৬৩ সনে । এই বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেন বিখ্যাত ব্রিটিশ জোর্তিবিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি । এডমন্ড হ্যালি (Edmond Halley) আবিষ্কার করেন বলে ধূমকেতুটির নামকরণ করা হয় ‘ হ্যালির ধূমকেতু ‘ । 

 জ্যোতিরবিজ্ঞানি এডমন্ড হ্যালি এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । এডমন্ড হ্যালি এর জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali বা এডমন্ড হ্যালি এর আত্মজীবনী বা এডমন্ড হ্যালি এর (Edmond Halley Jivani) জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

এডমন্ড হ্যালি কে ছিলেন ? Who is Edmond Halley ?

এডমন্ড হ্যালি (Edmond Halley) ছিলেন বিখ্যাত ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ভূপদার্থবিদ, গণিতজ্ঞ, আবহাওয়াবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী।এই বিজ্ঞানী একটি মহান অবদান ছিল আইজাক নিউটন দেহের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ নিয়ে কাজ করা। এডমন্ড হ্যালি (Edmond Halley) প্রথম বিজ্ঞানী যিনি ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন যে ধূমকেতু সময়-সময় পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে কারণ এই ধূমকেতুগুলিরও একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ ছিল।

জ্যোতিরবিজ্ঞানি এডমন্ড হ্যালির জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali :

নাম (Name) এডমন্ড হ্যালি (Edmond Halley)
জন্ম (Birthday) ৮ নভেম্বর ১৬৫৬ (8th November 1656)
জন্মস্থান (Birthplace) লন্ডন, ইংল্যান্ড
জাতীয়তা যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্র জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূ-পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, আবহাওয়াবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণ হ্যালির ধূমকেতু
দাম্পত্য সঙ্গী (Spouse) মেরি টোকি
সন্তান ড. এডমান্ড হ্যালি (d. 1741)

মার্গারেট (d. 1713)

রিচেল (d. 1748)

মৃত্যু (Death) ১৪ জানুয়ারি ১৭৪২ (14th January 1742)

এডমন্ড হ্যালির জন্ম – Edmond Halley Birthday :

 এডমন্ড হ্যালি ১৬৫৬ খ্রীষ্টাব্দের ৮ ইনভেম্বর ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেন সেই সময়টা ছিলাে আধুনিক বিজ্ঞানের উন্মেষের যুগ । 

এডমন্ড হ্যালির শিক্ষাজীবন – Edmond Halley Education Life :

 লন্ডনের সেন্টপল স্কুলের পড়া শেষ করে হ্যালি ১৬৭৩ খ্রীষ্টাব্দে অক্সফোর্ড কুইন্স কলেজে ভর্তি হন । এই কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ছিলেন জন ফ্রেমস্টিড । ফ্রেমস্টিড রয়াল গ্রীনিচ অবজারভেটরিতে গবেষণা করতেন । ফ্রেমস্টিড খুব স্নেহ করতেন জ্যোতির্বিজ্ঞানে উৎসাহীহ্যালিকে । এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই হ্যালি বেশ কয়েকবার গ্রীনিচ অবজারভেটরিতে যাবার সুযােগ পান । 

এডমন্ড হ্যালির নক্ষত্রের ওপর গবেষণা :

 ছাত্র অবস্থাতেই হ্যালি তার শিক্ষক ফ্রেমস্টিডের তত্বাবধানে উত্তরাকাশে নক্ষত্র গণনার উপর গবেষণা করতে থাকেন । উত্তর আকাশের উপর গবেষণা করতে করতে তার নিজের উপর বিশ্বাস জন্মে যায় । তখন তিনি দক্ষিণ আকাশের নক্ষত্রের অবস্থান সমূহের উপর গবেষণা করার প্রস্তাব করেন । হ্যালির উপর ফ্রেমস্টিড – এর । ছিলাে : অগাধ বিশ্বাস । তিনি প্রস্তাবটি সঙ্গে সঙ্গে সমর্থন করেন এবং হ্যালি যাতে তার এই গবেষণা চালাতে পারেন তিনিতারও প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা করে দেন ।

এডমন্ড হ্যালির নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয় ও সুক্রগ্রহের গতিপথ নির্ণয় :

 হ্যালি ১৬৭৬ সনের নভেম্বর মাসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর একটা জাহাজে করে দক্ষিণ গােলার্ধে রওয়ানা দেন । তার গন্তব্য ছিলাে আটলান্টিক মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্ট হেলেনা । তিনি সেন্ট হেলেনায় ততাে ভালােভাবে গবেষণা চালাতে পারেননি আবহাওয়া খারাপের দরুন । তবে তিনি দক্ষিণ গােলার্ধের ৩৪১ টি নক্ষত্রের অক্ষাংশও দ্রাঘিমার অবস্থান নির্ণয় করেন । তিনি শুক্রগ্রহের গতিপথও নির্ণয় করেন ।

এডমন্ড হ্যালির ক্যাটালগ প্রকাশ – Edmond Halley catalogue Published :

 হ্যালি দক্ষিণ গােলার্ধে এক বছর ধরে গবেষণা করে নক্ষত্রের যে ক্যাটালগ তৈরি করেছিলেন , সেটা ১৬৭৮ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় । 

[আরও দেখুন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনী – Rabindranath Tagore Biography in Bengali]

এডমন্ড হ্যালির গ্রন্থ – Edmond Halley Book :

 দক্ষিণআকাশের নক্ষত্র গণনার উপর হ্যালির গবেষণাই ছিলাে প্রথম গবেষণা এবং প্রামাণ্য গ্রন্থ । গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরই জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসাবে এডমন্ড হ্যালির নাম ছড়িয়ে পড়ে বিজ্ঞানজগতে এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসাবে তিনি স্বীকৃতি লাভ করেন । 

এডমন্ড হ্যালির রযাল সোসাইটির সদস্য ও মাস্টার ডিগ্রি প্রদান – Royal Society Member and Master Degree :

হ্যালি তার এই কৃতিত্বের জন্য ১৬৭৮ খ্রীষ্টাব্দে লন্ডনের রয়াল সােসাইটির সদস্যপদ লাভ করেন । শুধু তাই নয় , অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তার কৃতিত্বের জন্য কোর্স কমপ্লিট না করা সত্ত্বেও তাকে মাস্টার ডিগ্রী প্রদান করে।

এডমন্ড হ্যালির আইজ্যাক নিউটন এর সাথে সাক্ষাৎ – Edmond Halley meet Isaac Newton :

 এইসময় বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী নিউটন গ্রহরাজির গতিবিধির উপর গবেষণা করেছিলেন । ১৬৮৪ খ্রীষ্টাব্দে এডমন্ড হ্যালি কেব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে স্যার আইজ্যাক নিউটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন । মধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কারের জন্য নিউটনের তখন বিশ্বজোড়া খ্যাতি । 

 নিউটনর্তাকে জানান যে , তিনি গ্রহরাজির গতিবিধির গাণিতিক ব্যাখ্যা প্রদান করে একটা বই লিখেছেন নাম ‘ প্রিন্সিপিয়া । নিউটন তার এই গুরুত্বপূর্ণ বইটির সংশােধন মুদ্রণ ও প্রকাশের সার্বিক দায়িত্ব অর্পণ করে এডমন্ড হ্যালির উপর । কাজটি ছিলাে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল । কিন্তু মেধাবী হ্যালি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্বটি পালন করেন বইটি ১৬৮৭ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় ।

[আরও দেখুন, আইজ্যাক নিউটন এর জীবনী – Isaac Newton Biography in Bengali]

হ্যালির ধূমকেতু আবিষ্কার – Invention halley’s comet :

 হ্যালি ১৬৮৬ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশ করেন ভু – পৃষ্ঠের একটা ম্যাপ । ম্যাপটিতে সাগর ও স্থলভাগের বায়ু চলাচলের একটা নিখুঁত চিত্র তিনি প্রকাশ করেন । এটাই ছিলাে পৃথিবীর সর্বপ্রথম ভৌগােলিক মানচিত্র । হ্যালির জীবনের আরেকটি সর্বাপেক্ষা বড় কাজ হলাে হ্যালির ধূমকেতুআবিষ্কার । তিনি মহাকাশ নিয়েও গবেষণা করেছেন প্রচুর । বিশেষ করে তিনি সৌরজগতের সবচেয়ে বৃহত্তম জ্যোতিষ্ক ধূমকেতুর পরিক্রমণ নিয়ে অনেক গবেষণা করেন ।

 ধূমকেতু নিয়ে তার গবেষণার ফলশ্রুতিতে প্রকাশিত হয় । Asynopsis of the Astronomy of Comets . az alce তিনি সৌরজগতের ২৪ টি উল্লেখযােগ্য ধূমকেতুর গতিপথ নিয়ে বিশদ আলােচনা করেন ।

সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব – Determining the distance between the sun and the earth :

 সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বকতাে এটাও হ্যালিআবিষ্কার করেছিলেন ।

এডমন্ড হ্যালির মৃত্যু – Edmond Halley Death :

 এই মহান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি ১৭৪২ সনের ১৪ ই জানুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে পরলােক যাত্রা করেন। 

এডমন্ড হ্যালির জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Edmond Halley Biography in Bengali (FAQ):

  1. এডমন্ড হ্যালির জন্ম কবে হয় ?

Ans: ১৬৫৬ খ্রীষ্টাব্দের ৮ ইনভেম্বর ।

  1. এডমন্ড হ্যালির জন্ম কোথায় হয় ?

Ans: লন্ডন ইংল্যান্ড এ ।

  1. এডমন্ড হ্যালির স্ত্রীর নাম কী ?

Ans: মেরি টোকি ।

  1. হ্যালির ধূমকেতু কে আবিষ্কার করেন ?

Ans: এডমন্ড হ্যালি ।

  1. এডমন্ড হ্যালি কবে নিউটন এর সাথে সাক্ষাৎ করেন ?

Ans: ১৬৮৪ সালে ।

  1. এডমন্ড হ্যালি কবে ভূ পৃষ্ঠের ম্যাপ প্রকাশ করেন ?

Ans: ১৬৮৬ খ্রিস্টাব্দে ।

  1. সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কে নির্ণয় করেন ?

Ans: এডমন্ড হ্যালি ।

  1. এডমন্ড হ্যালি কত সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হন ?

Ans: ১৬৭৩ সালে ।

  1. 1. এডমন্ড হ্যালি কবে জন্মগ্রহণ করেন?

Ans: ১৬৫৬ খ্রীষ্টাব্দের ৮ ইনভেম্বর ।

  1. এডমন্ড হ্যালি কবে মারা যান ?

Ans:  ১৭৪২ সনের ১৪ ই জানুয়ারি ।

[আরও দেখুন, আগাথা ক্রিস্টি এর জীবনী – Agatha Christie Biography in Bengali

আরও দেখুন, আলবার্ট আইনস্টাইন জীবনী – Albert Einstein Biography in Bengali

আরও দেখুন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী – Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali

আরও দেখুন, জেমস ওয়াট এর জীবনী – James Watt Biography in Bengali]

এডমন্ড হ্যালি এর জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali

   অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই ” এডমন্ড হ্যালি এর জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali  ” পােস্টটি পড়ার জন্য। এডমন্ড হ্যালি এর জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali পড়ে কেমন লাগলো কমেন্টে জানাও। আশা করি এই এডমন্ড হ্যালি এর জীবনী – Edmond Halley Biography in Bengali পোস্টটি থেকে উপকৃত হবে। এই ভাবেই BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকো যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইট টি ফলাে করো এবং নিজেকে  তথ্য সমৃদ্ধ করে তোলো , ধন্যবাদ।