অধ্যায়ঃ বায়ুমণ্ডলের উপাদান ( COMPOSITION OF THE ATMOSPHERE | জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Climatology – Geography

979

জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল – প্রশ্ন ও উত্তর | Geography – Climatology – Question and Answer in Bengali

অধ্যায়ঃ বায়ুমণ্ডলের উপাদান ( COMPOSITION OF THE ATMOSPHERE | জলবায়ুবিদ্যা - ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Climatology - Geography

অধ্যায়ঃ বায়ুমণ্ডলের উপাদান ( COMPOSITION OF THE ATMOSPHERE

1. আবহবিদ্যা ( METROLOGY ) । 

উত্তরঃ Metrology একটি গ্রীক শব্দ , যার অর্থ ‘ Discourse on things above ‘ , অর্থাৎ যে বিদ্যায় বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হচ্ছে তার আলােচনা করে , তাকে আবহবিদ্যা বলে । আবহবিদ্যার সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য তাপীয় গতিবিজ্ঞান , তরল পদার্থের গতিবিজ্ঞান ও গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানে জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়ােজন ।
গুরত্ব : আবহবিদ্যার দ্বারা আবহাওয়ার পূর্বাভাস , মৎস্যজীবীদের সতর্কতা , বিমান পরিবহনের খুঁটিনাটি জানা যায় ।

2. জলবায়ুবিদ্যা ( CLIMATOLOGY ) ।

উত্তরঃ গ্রীক শব্দ ‘ klimalogos ’ থেকে ‘ Climatology শব্দের উৎপত্তি , যার ‘ klima ‘ অর্থ ‘ পৃথিবীর টান ’ বা ‘ অক্ষাংশ ’ ও ‘ Logos অর্থ বর্ণনা ’ , অর্থাৎ যে বিদ্যা পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন ঘটনাবলীর বিস্তৃতি সম্পর্কে এক সুস্পষ্ট ধারণা দেয় , তাকে জলবায়ুবিদ্যা বলে । 
পরিধি : জলবায়ুবিদ্যায় পৃথিবীর বিভিন্ন ভৌগােলিক পরিবেশের বিবরণের সাথে বায়ুচাপ , উয়তা ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে । 
গুরুত্ব : মানুষের খাদ্যবস্তু , বাসস্থান ও জীবনপ্রণালীতে জলবায়ুর গুরুত্ব অপরিসীম । এছাড়া নির্মাণ , জনপদ নির্মাণ , বাতাসের গতি ও দিক নির্ণয় করা হয় । এর উপর নির্ভর করেই কৃষি , চিকিৎসা ও নাগরিক জলবায়ুবিদ্যা গড়ে উঠেছে ।

3. বায়ুমণ্ডল ( ATMOSPHERE ) । 

উত্তরঃ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় 10 , 000 কিমি পর্যন্ত যে অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে , তাকে বায়ুমণ্ডল বলে । পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বায়ুমণ্ডল পৃথিবী আবর্তন করে চলেছে । বায়ুমণ্ডল পৃথিবীরই অবিচ্ছেদ্য অংশ । বায়ুমণ্ডলের উৰ্দ্ধসীমার পরেই রয়েছে অনন্ত মহাশূন্য । যেখানে যাবতীয় গ্রহ – নক্ষত্র নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে । ৪ এটেসিও ( Etesian ) বায়ুপ্রবাহ । গ্রীষ্মকালে পূর্ব ভূ – মধ্য সাগরে উঃ পূঃ থেকে দঃ পঃ দিকে প্রবাহিত বায়ু প্রবাহকে এটেসিও বায়ুপ্রবাহ বলে । গ্রীষ্মকালে সাহারা মরুভূমির উপর প্রচণ্ড নিম্নচাপের ফলে এই বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় ।
বৈশিষ্ট্য : ( i ) অপরাহ্নের শেষে যখন পরিচলন স্রোতের বেগ বেশী হয় তখন এই বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ 45 knot পর্যন্ত হয় । ( ii ) এর ফলে সমুদ্র উত্তাল হয় ও সমুদ্র সৈকতে কুয়াশা দেখা যায় ।

4. সমমণ্ডল বা হােমমাস্ফিয়ার ( HOMOSPHERE ) ।

উত্তরঃ আমেরিকার জাতীয় বিমান ও মহাকাশ সংস্থা ( NASA ) – র সমীক্ষা অনুযায়ী রাসায়নিক গঠন । অনুসারে শ্রেণীকৃত প্রধান শ্রেণী হােমমাস্ফিয়ার , সমুদ্রসমতল থেকে 100 কিমি ( মতান্তরে 80 – 90 কিমি ) । উর্ধ পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে গঠনকারী উপাদানগুলি মােটামুটি সমধর্মী হয় এবং উপাদানগুলি নির্দিষ্ট পরিমাণে মিশ্রিত থাকে , তাই এই স্তরটিকে সমমণ্ডল বলে । গ্রীক শব্দ ‘ Homo ‘ অর্থ ‘ সমবৈশিষ্ট্যপূর্ণ ’ ও ‘ Sphere অর্থ মণ্ডল । এখানে নাইট্রোজেন ( 78 . 1 % ) , অক্সিজেন ( 20 . 9 % ) , কার্বন – ডাই – অক্সাইড ( 0 . 03 % ) , এছাড়াও আর্গন , নিয়ন ইত্যাদি দুষ্প্রাপ্য গ্যাস বিরাজ করে । তবে বর্তমানে এই স্তরের রাসায়নিক গঠন বহুলাংশে পরিবর্তিত হচ্ছে ।

5. বিষমমণ্ডল বা হেটারােস্ফিয়ার ( HETEROSPHERE ) । 

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের মেসােস্ফিয়ারের উর্ধ্বে প্রায় 100 কিলােমিটার থেকে প্রায় 10000 কিলােমিটার পর্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাতে এবং বিভিন্ন গ্যাসের স্তরগুলির মধ্যে বিভিন্নতা দেখা যায় । এই স্তরকেই । বিষমমণ্ডল বা হেটারােস্ফিয়ার বলে । Hetero ‘ অর্থ ‘ বিষম ’ ও ‘ Sphere ‘ শব্দের অর্থ মণ্ডল । স্তরসমূহ : রাসায়নিক গঠন অনুসারে এই মণ্ডলে চারটি স্তর বর্তমান । যথা — i ) আণবিক নাইট্রোজেন স্তর ( 100 – 200 কিমি ) ii ) পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর ( 201 – 1 , 000 কিমি ) । iii ) হিলিয়াম স্তর ( 1 , 001 – 2 , 000 কিমি ) । iv ) হাইড্রোজেন স্তর ( 3 , 501 – 10 , 000 কিমি ) 
মেমরী প্লাস : USA – র প্রখ্যাত মহাকাশ বিজ্ঞানী জাস্ট্রা ও নিকোলেট এই স্তর নিয়ে গবেষণা করেন ।

6. ট্রপােস্ফিয়ারের ( TROPOSPHERE ) বৈশিষ্ট্য ।

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর ট্রপােস্ফিয়ার । Tropo ’ শব্দের অর্থ ‘ Mixing ’ বা ‘ Turbulence ‘ । এর বৈশিষ্ট্য হল — ( A ) ক্ষুন্ধমণ্ডল : ঝড় , মেঘ , বৃষ্টি , বজ্রপাত সমস্ত প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায় বলে একে ক্ষুন্ধমণ্ডল বলে ।( B ) উচ্চতা : নিরক্ষীয় অঞ্চলে 17 কিমি , ক্রান্তীয় অঞ্চলে 12 . 5 কিমি , মেরুতে ৪ কিমি এবং গড় 12 কিমি উচ্চতা । ( C ) তাপমাত্রা : উচ্চতা বাড়ার সাথে প্রতি 1000 মি . উচ্চতায় 6 . 4°C বা 1000 ফুট উচ্চতায় | 3 . 6°F উয়তা কমে । ( D ) উপাদান : বায়ুমণ্ডলের 75 % গ্যাসীয় উপাদান ( N , , 0 , ও Co , ) ট্রপােস্ফিয়ারে অবস্থিত । ( E ) ট্রলােপজ : ট্রপােস্ফিয়ারের সর্বোচ্চ সীমানা ট্রলােপজ । এখানের গড় উয়তা – 60°C । ( F ) বৈচিত্র্য : আবহাওয়া , জলবায়ু মানুষসহ জীবজগতের সমস্ত বৈচিত্র্যই এই স্তরে দেখা যায়।

7. ট্রলােপজ । 

উত্তরঃ ‘ Tropopause – এর অর্থ ‘ Where mixings stops অর্থাৎ ‘ যেখানে বায়ুর মিশ্রণ থেমে যায় । ট্রপােস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমায় ভূ – পৃষ্ঠ থেকে গড়ে 12 কিমি উচ্চতায় ট্রপােস্ফিয়ার ট্র্যাটোস্ফিয়ারের সংযােগকারী সীমানাকে ট্রলােপজ বলে ।
বৈশিষ্ট্য : i ) তাপীয় মিশ্রণ ও বায়ুপ্রবাহ এখানে বায়ুর তাপীয় মিশ্রণ ও বায়ুপ্রবাহ চোখে পড়ে না । ii ) কম উয়তা ট্রলােপজে বায়ুর গড় তাপমাত্রা – 60° সেন্টিগ্রেড । 
         আধুনিক গবেষণায় জানা গেছে , বায়ুমণ্ডলীয় ছেদতল বস্তুর কোন নির্দিষ্ট তল নয় , পরস্পর পরস্পরের আবরণকারী অনেকগুলি তলের সমষ্টি ।

8. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ( STRATOSPHERE ) বৈশিষ্ট্য । 

উত্তরঃ ট্রলােপজের উপরে বায়ুমণ্ডলের যে স্তর রয়েছে তার নাম স্ট্রাটোস্ফিয়ার । এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল — ( A ) শান্তমণ্ডল : স্ট্রাটোস্ফিয়ারের বায়ুমণ্ডলের কোন গােলযােগ ( বৃষ্টি , ঝড় ) নেই , তাই এর অপর নাম শান্তমণ্ডল । ( B ) বিস্তার : এই স্তরের বিস্তার 18 – 50 কি . মি . । ( C ) ওজোনমণ্ডল : অতি গুরুত্বপূর্ণ ওজোন এই স্তরেই রয়েছে , যা না থাকলে উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল ধ্বংস হয়ে যেতাে । । ( D ) বায়ুর চাপ ও ঘনত্ব : এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ কম হয় । ( E ) উয়তা : ওজোন গ্যাসের প্রাধান্যের জন্য এই স্তরের ঊর্ধ্বসীমায় উয়তা বৃদ্ধি পেয়ে 0°C পৌঁছায় । ( F ) জেট বিমান চলাচল : মেঘ ও বৃষ্টির পাশ কাটিয়ে চলার জন্যে জেট বিমান এই স্তরের মধ্যে যাতায়াত করে ।

9. স্ট্রাটোপজ ( STRATOPAUSE ) ।

উত্তরঃ স্ট্যাটোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে স্ট্রাটোপজ বলে । স্ট্রাটোস্ফিয়ার ও মেসােস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী সংযােগকারী সীমানাকে স্ট্রাটোপজ বলে । বিশেষত্ব : i ) শান্ত বায়ুমণ্ডল — বায়ুর মিশ্রণ থেমে যায় বলে বায়ু শান্ত থাকে । ii ) উয়তা এখানে বায়ুর তাপমাত্রা 0°C ( 273°K ) । 

10. মেসােস্ফিয়ারের ( MESOSPHERE ) বৈশিষ্ট্য । 

উত্তরঃ স্ট্রাটোপজের উপরে 80 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে মেসােস্ফিয়ার বলে । গ্রীক শব্দ ‘ Meso কথার অর্থ ‘ middle ‘ । এই স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলি হল — ( A ) উন্নতা : মেসােস্ফিয়ারের তাপমাত্রা উপরের দিকে কমতে থাকে । এখানে তাপমাত্রা – 90°C থেকে – 100°C । ( B ) বায়ুর চাপ : মেসােস্ফিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এখানে বায়ুর চাপ খুব কম । ( C ) উল্কা ছাই : মহাকাশ থেকে পড়া উল্কা এই স্তরে পুড়ে ছাই হয়ে যায় । ( D ) মেসােপজ : মেসােস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমাকে মেসােপজ বলে । 

11. থার্মোস্ফিয়ারের ( THERMOSPHERE ) বা আয়নােস্ফিয়ার ( INOSPHERE ) – এর বৈশিষ্ট্য।

উত্তরঃ ভূ – পৃষ্ঠ থেকে 80 – 480 কিমি পর্যন্ত বায়ুস্তরকে থার্মোস্ফিয়ার বলে । এই স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরুপ ( A ) উয়তা : উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই স্তরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে ( যেমন – 200 কিমিতে 700°C ) । ( B ) বায়ুর চাপ : মহাকাশীয় বিকিরণে সৌরশক্তি ও অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা এই স্তর আয়নিত বায়ু । স্তরে পরিণত হয় । ( C ) বেতার তরঙ্গ : ভূ – পৃষ্ঠ থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ এই স্তরে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় ফিরে এসে বেতার সংযােগ ঘটে । ( D ) সমতাপ : 480 কিমি ঊর্ধ্বে উয়তা কমেও না বাড়েও না । তাই এই বায়ুস্তরকে সমতাপ অঞ্চল । বলে । ( E ) মেরুজ্যোতি : এই স্তরে বিভিন্ন তড়িৎগ্রস্ত অণুর চুম্বক বিক্ষেপের ফলে অণুগুলির প্রােটন ও ইলেকট্রন পরস্পরের সংঘর্ষে এসে উত্তেজিত হয়ে পড়লে আলােক বিচ্ছুরণ দ্বারা মেরুজ্যোতির সৃষ্টি হয় । মেমরী প্লাস : 1947 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের স্যার এডওয়ার্ড ভি অ্যাপেলটন আয়নােস্ফিয়ার স্তরের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন ।

12. থার্মোস্ফিয়ারের মধ্যে আয়নােস্ফিয়ার ।

উত্তরঃ থার্মোস্ফিয়ার বলতে মেসােপজের উপরের থেকে 480 কিমি অঞ্চলকে বােঝানাে হয় , সেখানে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে । থার্মোস্ফিয়ারের নিম্নসীমা মহাজাগতিক রশ্মি দ্বারা । প্রভাবিত হয় । ফলে এখানে কম ঘনত্বের পারমাণবিক ও আণবিক নাইট্রোজেনগুলি নেগেটিভ ও পজেটিভ আয়নে ভেঙে যায় । এই আয়নযুক্ত মণ্ডলকে আয়নােস্ফিয়ার বলে । যেহেতু থার্মোস্ফিয়ারের মধ্যে আয়নিত । হবার প্রক্রিয়া সংগঠিত হয় , তাই থার্মোস্ফিয়ারের মধ্যেই আয়নােস্ফিয়ার দেখা যায় । 

13. আয়নােস্ফিয়ারের ( IONOSPHERE ) গুরুত্ব । 

উত্তরঃ মানবজগতে আয়নমণ্ডলের গুরুত্ব অপরিসীম । এগুলি হল — ( A ) আয়নমণ্ডল সৃষ্টি : মহাকাশীয় বিকিরণে সৌরশক্তি ও অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা এই স্তর আয়নিত বায়ুস্তরে পরিণত হয় । ( B ) বেতার সংযােগ : ভূ – পৃষ্ঠ থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ এই স্তরে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় ফিরে এসে বেতার সংযােগ ঘটে । ( C ) মেরুজ্যোতি সৃষ্টি : এই স্তর বিভিন্ন তড়িগ্রস্ত অণুর চুম্বক বিক্ষেপের ফলে অণুগুলির প্রােটন । ও ইলেকট্রন পরস্পর সংস্পর্শে এসে উত্তেজিত হয়ে আলােক বিচ্ছুরণ দ্বারা দুই মের অঞলে মেরুজ্যোতির সৃষ্টি হয় । ( D ) X – রশ্মির থেকে রক্ষা : বিপজ্জনক X – রশ্মির থেকে পৃথিবী রক্ষা পায় । 

14. সমতাপ অঞ্চল ( ISOTHERMAL REGION ) । 

উত্তরঃ থার্মোস্ফিয়ারের তাপমাত্রা খুব বেশি হয় । থার্মোস্ফিয়ারের 480 কিমি উচ্চতায় উন্নতা প্রায় 1200 সেন্টিগ্রেড । এখানে উয়তা বাড়েও না কমেও না , তাই এই অঞ্চলে উয়তা একই থাকার জন্য এই সমতাপ অঞ্চল বা ISOTHERMAL REGION বলা হয় ।

15. ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয় ।

উত্তরঃ ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয় । বায়ুমণ্ডলের 3000 – 16000 কিমি ’ র মধ্যে সৌরবাত ( Solarwind ) থেকে ইলেকট্রন ও প্রােটন আয়নগুলির সংঘর্ষ ও পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্রের কেন্দ্রীভবনের ফলে মহাজাগতিক রশ্মির ক্রিয়ায় যে বলয়ের সৃষ্টি করেছে , তাকে Van Allen Radiation Belts বলে । 

16. অ্যাপেলটন স্তর ( APPLETON IAYER ) । 

উত্তরঃ আয়নােস্ফিয়ার স্তরে বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় শক্তি দ্বারা তড়িতাহত হয় ( এক্স রশ্মি , গামা রশ্মি ) নাইট্রোজেন , হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন অণু ভেঙে ইলেকট্রন বেরিয়ে যায় ফলে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের প্রাচুর্য দেখা যায় । আয়নােস্ফিয়ারে D , E , F , ও F , এই চারটি স্তরের F স্তরকে অ্যাপেলটন স্তর বলে ( 150 380 কি . মি . ) । এই স্তরটিই রেডিও তরঙ্গকে পৃথিবীতে প্রেরণ করে । আবার E স্তরকে Kennely Heaviside স্তর বলে ।

17. জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব । 

উত্তরঃ জলের গ্যাসীয় অবস্থাকে জলীয় বাষ্প বলে । এই জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব নিম্নরূপ ( A ) মেঘের সৃষ্টি : বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প উপস্থিতির জন্য মেঘের সৃষ্টি হয় । ( B ) বৃষ্টিপাত : এর প্রভাবেই বৃষ্টিপাত , তুষারপাত , শিশির , তুহীন কুয়াশা ইত্যাদি সৃষ্টি হয় । ( C ) . উয়তার বন্টন : জলীয় বাষ্প তাপ শােষণ করে বলে উয়তার বন্টনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ( D ) অস্থির বায়ুমণ্ডল : জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির জন্য নিম্ন বায়ুমণ্ডল অস্থির । ( E ) অন্যান্য : জলীয় বাষ্প তাপ বিকিরণে বাধা দেয় বলে আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে , বেশি গরম মনে হয় । এছাড়া অধিক জলীয় বাষ্পযুক্ত বায়ু বায়ুমণ্ডলের পক্ষে অস্বস্তি ও অস্বাস্থ্যকর । 

18. ধূলিকণার গুরুত্ব ।

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণার গুরুত্ব অনেক । যেমন — ( A ) মেঘ ও বৃষ্টি : বায়ুমণ্ডলে ভাসমান বিভিন্ন ধূলিকণাকে কেন্দ্র করে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয় । এবং মেঘ – বৃষ্টিতে পরিণত হয় । ( B ) বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত : ধূলিকণা সূর্যতাপ শােষণ করে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত করে । ( C ) নীল আকাশ ও বর্ণচ্ছটা : সূর্যরশ্মি ধূলিকণায় প্রতিফলিত ও বিচ্ছুরিত হয়ে নানা রঙ ও বর্ণচ্ছটার সৃষ্টি করে । তাই আকাশকে নীল দেখায় । ( D ) ধোঁয়াশা সৃষ্টি : ধূলিকণা , ধোঁয়া ও কুয়াশায় শিশির হয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে ( লন্ডন , বার্মিংহাম শিল্পাঞ্চলে ) ।

19. অ্যারােসােল ( AEROSOL ) ।

উত্তরঃ Aero ‘ শব্দের অর্থ ‘ বায়ু ’ ও ‘ Sol ‘ শব্দের অর্থ ‘ ধূলিকণা ‘ । বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপায়ে আগত ধূলিকণা , যেমন — মরুভূমি ও সমুদ্রতীরবর্তী অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা ( 0 . 002 – 0 . 005 মিমি ) , কলকারখানা থেকে নির্গত পােড়া ছাই , অতি সূক্ষ্ম খনিজ লবণ , আগ্নেয়গিরি থেকে বিভিন্ন ভস্ম , ছাই এবং উল্কাপাত ইত্যাদি মহাজাগতিক শক্তির দ্বারা সৃষ্ট অতিসূক্ষ্ম বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে একত্রে অ্যারােসােল বলে । গুরুত্ব : অ্যারােমােলকে কেন্দ্র করে মেঘ ও বৃষ্টিপাত , বর্ণচ্ছটা ও আকাশ নীল ইত্যাদি কার্য বা ঘটনা ঘটে ।

20. বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব ।

উত্তরঃ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সমস্ত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ । কারণ — ( A ) জীবের আধার : অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর জীবজগৎ ধারনের অনুকূল স্থান । ( B ) UV রশ্মির থেকে রক্ষা : বায়ুমণ্ডলের ওজোন গ্যাস ( O , ) ক্ষতিকারক সূর্যের UV রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে । ( C ) নাইট্রোজেনের ভূমিকা : N , দ্বারা উদ্ভিদজগৎ প্রােটিন জাতীয় খাদ্য তৈরি করে ও প্রাণীরা । উদ্ভিদ থেকে এই খাদ্য গ্রহণ করে । ( D ) বৃষ্টিপাত : বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প দ্বারা বৃষ্টিপাত হয় ও পৃথিবী শস্যশ্যামলা হয়ে ওঠে । ( E ) অন্যান্য : এছাড়া শব্দতরঙ্গের দ্বারা আমরা শুনতে পাই , বায়ুমণ্ডল মহাজাগতিক বিভিন্ন দুর্ঘটনা । | থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে ।

INFO : Geography – Climatology – Question and Answer | ভূগোল – জলবায়ুবিদ্যা – বায়ুমণ্ডলের উপাদান ( COMPOSITION OF THE ATMOSPHERE – প্রশ্নোত্তর

         ” ভূগোল (Geography) – জলবায়ুবিদ্যা (Climatology) – বায়ুমণ্ডলের উপাদান ( COMPOSITION OF THE ATMOSPHERE “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক বিভিন্ন শ্রেনীর পরীক্ষা (Class 5, 6, 7, 8, 9,  Madhyamik, Higher Secondary – HS, College & University Exam) এবং বিভিন্ন চাকরির (WBCS, WBSSC) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে BhugolShiksha.com এর পক্ষ থেকে ভূগোল পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নো ও উত্তর উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  ভূগোল (Geography) জলবায়ুবিদ্যা (Climatology) – বায়ুমণ্ডলের উপাদান ( COMPOSITION OF THE ATMOSPHERE / সংক্ষিপ্ত ছোট প্রশ্ন ও উত্তর / SAQ / Short Question and Answer / QNA / FREE PDF Download ) পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর সফল হবে।

Source : Bhugolika

    স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ডিজিটাল মাধ্যম BhugolShiksha.com । এর প্রধান উদ্দেশ্য পঞ্চম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী, মাধ্যমিকউচ্চ মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় এবং গ্রাজুয়েশনের শুধুমাত্র ভূগোল বিষয়কে  সহজ বাংলা ভাষায় আলোচনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কাছে সহজ করে তোলা। 

        আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের পােস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই আমাদের ভূগোল শিক্ষা – Bhugol Shiksha – BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকুন। ভূগোল বিষয়ে যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইটটি ফলাে করুন এবং নিজেকে ভৌগোলিক  তথ্য সমৃদ্ধ করে তুলুন , ধন্যবাদ।

নিচের বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করেন বন্ধুদের মাঝে