বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt – Climatology – Geography

60
বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় - জলবায়ুবিদ্যা - ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt - Climatology - Geography
বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় - জলবায়ুবিদ্যা - ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt - Climatology - Geography

জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর

বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt – Climatology (Geography) Question and Answer in Bengali

বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt – Climatology – Geography : জলবায়ুবিদ্যা – Climatology (ভূগোল – Geography) বিষয়ের বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt প্রশ্ন ও উত্তর  নিচে দেওয়া হল। এই (বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt – জলবায়ুবিদ্যা Climatology – ভূগোল Geography) প্রশ্নোত্তর গুলি স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট। তোমরা যারা বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt – জলবায়ুবিদ্যা – Climatology (ভূগোল – Geography) অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (Short Question and Answer) খুঁজে চলেছো, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্নউত্তর ভালো করে পড়তে পারো। 

বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় (Pressure and Pressure Belt) জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর

1. বায়ুচাপ ( PRESSURE ) ।

উত্তর :  আবহাওয়া ও জলবায়ুর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বায়ুর চাপ । বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলির মধ্যে অভিকর্ষ শক্তির ফলে অনুসমূহের অবিরাম সংঘর্ষের দ্বারা ভূ – পৃষ্ঠে প্রযুক্ত বলকে বায়ুচাপ বলে।

   যে বায়ুর চাপ 1013.2 মিলিবার তাকে উচ্চ চাপমুক্ত বায়ু ও যে বায়ুর চাপ 986 মিলিবার তাকে নিম্নচাপযুক্ত বায়ু বলে । ভূ – পৃষ্ঠের সর্বত্র বায়ুর চাপ অসমান । বায়ুচাপ সর্বত্র মিলিবার এককে প্রকাশ করা হয়।

2. বায়ুচাপের তারতম্যের কারণ । 

উত্তর :  পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন বায়ুচাপ দেখা যায় । এই পার্থক্যের কারণগুলি হল–

i )  বায়ুর উষ্ণতাই বায়ুচাপের প্রধান কারণ । 

ii ) সমুদ্রসমতল থেকে ভূমির উচ্চতা ( সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রতি 900 ফুট উচ্চতায় 1″ হারে চাপ হ্রাস)

iii ) পৃথিবীর আবর্তন গতি ( আবর্তন গতির প্রভাবে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ থেকে বায়ু উত্তর ও দক্ষিণে ছিটকে যায় ) । 

iv ) বায়ুমণ্ডলের গভীরতা । 

v ) বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ।

 vi ) স্থলভাগ ও জলভাগের বন্টন ।

 vii ) ভূ – পৃষ্ঠে উপাদানের পার্থক্যের জন্য বায়ুচাপ বলয়ের তারতম্য হয় । এই তারতম্যের জন্যই পৃথিবীতে সাতটি চাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে ।

3. বায়ুপ্রবাহের কারণ । 

উত্তর :  উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ভূ – পৃষ্ঠের সমান্তরালে বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে । বায়ুপ্রবাহের কারণগুলি হল – 

 A ) তাপ ও চাপের পার্থক্যই হল বায়ুপ্রবাহের প্রধান কারণ ।

 B ) পাশাপাশি অবস্থিত একটি উচ্চচাপ ও অন্যটি নিম্নচাপযুক্ত বায়ু অবস্থান করলে বায়ুর ঢাল অর্থাৎ উচ্চচাপ থেকে বায়ু সর্বদা নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। 

C ) বায়ু উত্তপ্ত ও প্রসারিত হলে ঘনত্ব ও আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে যায় । ফলে বায়ু হালকা হয়ে ওপরে ওঠে ।

 D ) পৃথিবীর আবর্তনঘটিত কেন্দ্রাতিগ বল দ্বারা বায়ুপ্রবাহ ঘটে ।

 E ) জলীয় বাষ্প বিশুদ্ধ বায়ুর চেয়ে হালকা বলে বেশি জলীয় বাষ্প গ্রহণে বায়ু উর্দ্ধে উঠে যায় । 

4. বায়ুচাপের সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের সম্পর্ক ।

উত্তর :  বায়ুচাপের সাথে বায়ুপ্রবাহের সরল সম্পর্ক । এর মূলে রয়েছে উষ্ণতা । কোন স্থানে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়লে বায়ুস্তর অত্যধিক উষ্ণ হয়ে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি করে ও বিপরীতক্রমে তির্যকভাবে পতিত সূর্যরশ্মিযুক্ত স্থানে উষ্ণতা কমে উচ্চচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি করে । ফলে উত্তর গােলার্ধের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নির্গত বায়ু ঘড়ির কাটার দিকে ও নিম্নচাপ অঞ্চলের বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে প্রবাহিত হয় । যা দক্ষিণ গােলার্ধে বিপরীত অবস্থা সৃষ্টি হয় । ইহাই বাইস ব্যালট সূত্র নামে পরিচিত । 

5. বায়ুচাপ কক্ষ ।

উত্তর : একই অক্ষাংশে জলভাগ ও স্থলভাগের মধ্যে উষ্ণতার তারতম্যের জন্য পৃথিবীর চাপবলয়গুলি নিরবচ্ছিন্নভাবে পৃথিবীকে বেষ্টন না করে থেকে ছােট ছােট ভাগে বিভক্ত হয় । এই ছােট ছােট ভাগগুলিকে এক একটি বায়ুচাপ কক্ষ বলে । পৃথিবীর বায়ুচাপগুলি পূর্ব – পশ্চিম অক্ষাংশ বরাবর বিস্তৃত । সাধারণত স্থলভাগের উপর অবস্থিত বায়ুচাপগুলিতে উচ্চচাপকেন্দ্র ও জলভাগে নিম্নচাপ কেন্দ্রে পরিণত হয় । 

উদাহরণ : উত্তর গােলার্ধে শীতকালে দুইটি বায়ুচাপ কক্ষ হল— অ্যালুসিয়ান নিম্নচাপ কক্ষ ও সাইবেরীয় উচ্চচাপ কক্ষ । 

  বায়ুচাপ বলয়ের মধ্যে বায়ুচাপ কক্ষ থাকে ; কেননা একটি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয়ে উচ্চতার পার্থক্য , জল ও স্থলভাগের অবস্থানের তারতম্যে বায়ুচাপ কক্ষের সৃষ্টি হয় । 

6. বায়ুচাপবলয় ও বায়ুচাপ কক্ষের পার্থক্য ।

উত্তর :  

বায়ুচাপ বলয় বায়ুচাপ কক্ষ
পৃথিবীর পূর্ব – পশ্চিম অক্ষরেখা বরাবর বায়ুচাপ অঞ্চল পৃথিবীকে গােলাকৃতি বা মালার মতাে বেস্টন করে আছে বলে , এদের বায়ুচাপ বলয় বলে । বায়ুচাপ বলয়ের মধ্যে জল ও স্থলভাগের পার্থক্যে চাপ অঞ্চলগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হলে তাদের বায়ুচাপকক্ষ বলে ।
স্থলভাগ বিস্তার কম , জলভাগে বেশী । স্থলভাগে বায়ুচাপ কক্ষ বেশী ও স্থলভাগে কম থাকে ।
উত্তর গােলার্ধে অবস্থান কম ও দক্ষিণ গােলার্ধে অবস্থান বেশী। উত্তর গােলার্ধে অবস্থান বেশী ও দক্ষিণ গােলার্ধে কম ।
পৃথিবীর আবর্তনগতি , সূর্য – রশ্মির তাপীয় ফল ও অক্ষাংশগত তারতম্যে এর উৎপত্তি হয় । একই বায়ুচাপ বলয়ে স্থলভাগ , জলভাগ এবং উচ্চতার পার্থক্যের কারণে বায়ুচাপ কক্ষের সৃষ্টি হয় । 
একই বায়ুচাপ বলয়ে বায়ুচাপ সমান হয় । বায়ুচাপ কক্ষ একটি বায়ুচাপ বলয়েই উচ্চতাপ ও নিম্নচাপ বিশিষ্ট হয় ।

7. বায়ুচাপ বলয়ের সীমা পরিবর্তনের কারণ ।

উত্তর :  বায়ুর উষ্ণতা ও চাপের পার্থক্যে বায়ুচাপগুলিরও স্থান পরিবর্তন ঘটে । এগুলি হল-

 A ) সূর্যের উত্তরায়নের সঙ্গে সঙ্গে নিয়তচাপবলয় গুলি উত্তর ও দক্ষিণায়নের সাথে সাথে দক্ষিণে সরে যায় । 

B ) সূর্য নিরক্ষরেখা থেকে 21 জুন 231/2 ° উত্তরে সরে গেলেও বায়ুচাপবলয়গুলি মাত্র 5 ° উত্তরে সরে যায় ।

C ) বায়ুচাপ বলয়গুলির সাথে বৃষ্টি বলয়গুলিও সরে যায় । কেননা গ্রীষ্মে আয়নবায়ু উত্তরে সরে গেলে সাভানা অঞলে বৃষ্টিপাত হয় , কিন্তু শীতে দক্ষিণে সরে গেলে কোন বৃষ্টিপাত ( ভূমধ্যসাগরীয় অঞলে ) হয় না।

 D ) উত্তর ও দক্ষিণ গােলার্ধের 30°-40 ° অক্ষাংশে পর্যায়ক্রমে আয়নবায়ু ও পশ্চিমাবায়ুর প্রভাব আসে । 

8. পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়ের নাম । 

উত্তর : পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়গুলি চিত্রের সাহায্যে উপস্থাপন করা হল-

বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় - জলবায়ুবিদ্যা - ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt - Climatology - Geography

9. নিরক্ষায় নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টির কারণ । 

উত্তর :  নিরক্ষরেখার উত্তর দিকে  5°-10 ° অক্ষাংশে চিরস্থায়ী নিম্নচাপ সৃষ্টির কারণ হল –

A ) সারা বৎসর সূর্যকিরণ লম্বভাবে 661/2° – 90 ° পড়ে বলে এখানকার বায়ু উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয় ও হালকা হয়ে উর্ধে উৎক্ষিপ্ত হয় । 

B ) এখানে সথলভাগ অপেক্ষা জলভাগ বেশি থাকায় প্রচণ্ড সূর্যতাপে জল বাষ্পে পরিণত হয় , ফলে বায়ু উর্ধে উঠে যায় ।

 c ) পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য এই অঞ্চলের উচ্চ স্তরের উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর ও দক্ষিণে ছিটকে যায় । 

 তাই বায়ুর চাপ কম থাকায় এখানে শান্তবলয় বা নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে । 

10. মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টির কারণ । 

উত্তর :  প্রধানত তিনটি কারণে সুমেরু ও কুমেরু বিন্দুতে উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে । যথা-

 A ) দুই মেরুর নিকটবর্তী অঞ্চলে অতিরিক্ত শৈত্যের জন্য বায়ু সর্বদাই শীতল ও ভারী হয় ।

 B ) মেরু অঞ্চলে সূর্যকিরণের অভাবে বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম । 

C ) এছাড়া পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে মেরুবৃত্তের নিম্নচাপ বলয় থেকে বায়ুর যে অংশ ছিটকে উঠে যায় তা এখানে নিম্নে নেমে আসে । ফলে উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি করে । 

11. উপক্রান্তীয় অঞ্চলে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণ । 

উত্তর : নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের উর্ধগামী বায়ু পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর – দক্ষিণে উভয় দিকে ছিটকে যায় এবং Anti – trade wind রূপে আয়নবায়ুর উপর দিয়ে বিপরীতদিকে প্রবাহিত হয় । অপরদিকে , মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উদ্ধাকাশ দিকে আগত বায়ুর সঙ্গে মিলিত হয়ে ক্রান্তীয় অঞ্চলে নেমে এসে উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি করে ।

12. বায়ুচাপ বলয়ের সীমানা পরিবর্তনের ফল । 

উত্তর : সুর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে সূর্যরশ্মির পতনকোনের তারতম্য হয় বলে পৃথিবীর স্থায়ী চাপ বলয়গুলােও সীমানা পরিবর্তন করে । এর ফলে জলবায়ুগত কিছু পরিবর্তন ঘটে ; যেমন- 

(  i ) গ্রীষ্মকালে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় স্থান পরিবর্তন করে ভারতের মাঝ বরাবর অবস্থান করায় ভারতে মৌসুমী বায়ুর আগমনে বৃষ্টিপাত ঘটে ।

 ( ii ) কর্কটীয় ও মকরীয় চাপ বলয়গুলি স্থান পরিবর্তনের ফলে ভূ – মধ্যসাগরীয় স্থানে শীতে পশ্চিমাবায়ু প্রবেশের ফলে বৃষ্টিপাত ঘটে । 

( iii ) গ্রীষ্মে আয়নবায়ু উত্তরে সরে গেলে সাভানা অঞ্চলে বৃষ্টি হয় । যেমন — সুদানের বৃষ্টিপাত ।

 ( iv ) চাপবলয়ের সাথে বর্ষাকালের সম্পর্ক গভীর- The rain follows the sun . 

13.  L.T.C.Z কী ? বা , ডােলড্রাম ( DOLDRUM )

উত্তর :  নিরক্ষীয় অঞ্চলের 5°উঃ – 5° দঃ অক্ষাংশে সারা বৎসর লম্ব সৌরকিরণের জন্য বায়ু উষ্ণ, লঘু , প্রসারিত ও হালকা হয়ে উপরে ওঠে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে । এই নিম্নচাপ ও বায়ুর শূন্যতা পূরণ করার জন্য উচ্চচাপযুক্ত উপক্ৰান্তীয় অঞলের উত্তর – পূর্ব আয়নবায়ু ও দক্ষিণ ক্রান্তীয় অঞ্চলের দক্ষিণ – পূর্ব আয়নবায়ু নিরক্ষীয় অঞ্জলে পরস্পরের সাথে মিলিত হয় । একে আন্তঃক্রান্তীয় মিলন অঞ্চল ( INTERTROPICAL CONVERGENCE ZONE) বলে । এই অঞ্চলে বায়ু শান্ত ও প্রবাহহীন থাকে এবং বায়ু উলম্বভাবে প্রবাহিত হয় । একে ডােলড্রাম বলে । ভারত মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে এই I.T.C.Z বলয়টি অবস্থিত ।

14. বায়ুচাপ বলয়ের সাথে আয়নৰায়ুর সম্পর্ক ।

উত্তর : আয়নবায়ুর সাথে বায়ুচাপ বলয় ঘনিষ্ট সম্পর্কযুক্ত । কর্কটীয় এবং মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বৎসর নিয়মিতভাবে এই প্রকার বায়ু প্রবাহিত হয় । ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গােলার্ধে এই বায়ু ডান দিকে প্রবাহিত হয়ে উত্তর পূর্ব আয়নবায়ুরূপে এবং দক্ষিণ গােলার্ধে এই বায়ু বামদিকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ – পূর্ব আয়ন বায়ু রূপে পরিচিতি লাভ করে । উত্তর-পূর্ব আয়নবায়ুর গতিবেগ ( 16 কিমি / ঘণ্টা ) দক্ষিণ – পূর্ব আয়নবায়ুর তুলনায় কম ( 22 কিমি / ঘন্টা । জয়ভাগ বেশী বলে বায়ু বাধা পায় না ) ।

15. বায়ুচাপ বলয়ের সাথে পশ্চিমাবায়ুর সম্পর্ক । 

উত্তর : বায়ুচাপ বলয়ের সাথে পশ্চিমাবায়ুর ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে । কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আয়নবায়ুর বিপরীতে অর্থাৎ সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তের নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বৎসর নির্দিষ্ট পথে পশ্চিমদিকে প্রবাহিত হয় । পশ্চিমদিক হয়ে আসে বলে এই বায়ুকে পশ্চিমাবায়ু বলে । ফেরেলের সুত্রানুসারে এই বায়ু উত্তর গােলার্ধের ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ – পশ্চিম পশ্চিমাবায়ু রূপে এবং দক্ষিণ গােলার্ধে বামদিক বেঁকে উত্তর – পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুরূপে প্রবাহিত হয় । 

16. বায়ুচাপ বলয়ের সাথে মেরুবায়ুর সম্পর্ক । 

উত্তর : বায়ুচাপ বলয়ের সাথে মেরুবায়ুর সম্পর্ক গভীর । উত্তর গােলার্ধে সুমেরু উচ্চচাপ বলয় থেকে সুমেরু বৃত্তের নিম্নচাপ বলয়ের দিকে এবং দক্ষিণ গােলার্ধে কুমেরু উচ্চচাপ বলয় থেকে কুমেরু বৃত্তের নিন্মচাপ বলয়ের দিকে সারা বৎসর ধরে প্রবাহিত শীতল বায়ুকে মেরুবায়ু বলে । ফেরেলের সূত্রানুযায়ী এই বায়ু উত্তর গােলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গােলার্ধে বামদিকে প্রবাহিত হয় । উত্তর গােলার্ধে এই বায়ু উত্তর পূর্ব দিকে এসে উত্তর – পূর্ব মেরু বায়ু ও দক্ষিণ গােলার্ধে দক্ষিণ – পূর্ব দিকে এসে দক্ষিণ – পূর্ব মেরু বায়ুরূপে প্রবাহিত হয় ।

17. বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুস্রোতের মধ্যে পার্থক্য । 

উত্তর : 

বায়ুপ্রবাহ বায়ুস্রোত
উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ভূ – পৃষ্ঠের সমান্তরালে বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে । পক্ষান্তরে উলম্বভাবে অর্থাৎ ওপর – নিচে বায়ু চলাচলকে বায়ুস্রোত ( AIR CURRENT ) বলে । 
বায়ু উত্তর গােলার্ধের ডানদিকে ও দক্ষিণ গােলার্ধের বামদিকে ফেরেলের সূত্রানুসারে । প্রবাহিত হয় । বায়ুস্রোত এরূপ কোন সুত্রানুযায়ী প্রবাহিত হয় না।
মানবজীবনে বায়ুপ্রবাহের প্রভাব মহাগুরুত্বপূর্ণ ।  বায়ুস্রোতও বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে ।

18. ডোলড্রাম ও অশ্ব অক্ষাংশের পার্থক্য ।

উত্তর :  

ডোলড্রাম অশ্ব অক্ষাংশ
নিরক্ষীয় অঞলের বায়ু সর্বদা শান্ত থাকে এখানে বায়ুপ্রবাহ বােঝা যায় না । তাই এই অঞলকে শান্ত অঞ্চল বা ডােল ড্রাম বলে । ক্রান্তীয় অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয়ের শান্ত অক্ষাংশকে অশ্ব অক্ষাংশ বলে ।
5°উঃ -5°দঃ অক্ষাংশের মধ্যে ডোলড্রাম অবস্থিত । 25-35° উঃ ও 25-35° দঃ অক্ষাংশে এর অবস্থান ।
ডােলড্রামে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উদ্ধগামী হয়। অশ্ব অক্ষাংশে শীতল ও ভারী বায়ু  নিম্নগামী হয় ।
এখানে উত্তর – পূর্ব ও দক্ষিণ – পূর্ব আয়ন একই অভিমুখে এসে মিলিত হয় । এখানে আয়ন বায়ু ও পশ্চিমাবায়ু বায়ু বিপরীত অভিমুখে প্রবাহিত হয় ।
সারা বৎসর ও অধিক পরিচলন বৃষ্টি ঘটে। শুষ্ক আয়ন বায়ু প্রবাহিত হয় বলে খুব কম বৃষ্টি হয়।

19. সমচাপ রেখা ।

উত্তর :  কোন অঞলের বিভিন্ন কেন্দ্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ে পরিলক্ষিত বায়ুচাপগুলিকে সাগরাঙ্কে পরিবর্তিত করে সমান বায়ুচাপবিশিষ্ট স্থানগুলিকে পরস্পর যােগ করে মানচিত্রে স্থাপন করে যে কাল্পনিক রেখা পাওয়া যায় , তাকে সমচাপ রেখা ( ISOBAR যার , ‘ISO’ = Equal ও ‘ BAR’ = PRESSURE ) বলে । 

বৈশিষ্ট্য : i ) বায়ুচাপ বলয়গুলি জলভাগ ও উচ্চতার তারতম্যে আঁকাবাঁকা হয় । 

ii ) দুটি সমচাপরেখার তারতম্য ধীর গতিতে হয় । 

গুণাগুণ : সমচাপরেখার সাহায্যে বায়ুচাপ , বায়ুপ্রবাহ ও ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয় । 

20. লী – তরঙ্গ ( LEE – WAVE ) ।

উত্তর :  ভূ – পৃষ্ঠের উপরিভাগে স্থিরগতিসম্পন্ন বায়ু কোন শৈলশিরা বা উচ্চভূমিতে বাধাপ্রাপ্ত হলে বায়ু প্রতিবাত ঢালে বায়ু উদ্ধগামী হয় । পরবর্তীকালে বায়ুর বেগ বাড়লে বায়ু নিম্নগামী হয় । তখন ঐ বায়ুস্রোত পর্বত অতিক্রম করে তরঙ্গের আকারে বেশ কিছুদূর ছড়িয়ে পড়ে । এরূপ অবস্থাকে লী – তরঙ্গ বলে । এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 3-30 কিমির মধ্যে বিদ্যমান ।

বৈশিষ্ট্য : ভারতের পশ্চিমঘাট পার্বত্য অঞলে ও উত্তর – পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে গারাে , খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া এবং ইওরােপের আল্পস , উত্তর আমেরিকার রকি পার্বত্য অঞলে এই বায়ুপ্রবাহ দেখা যায় ।

FILE INFO : বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt | জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর (Climatology – Geography)

File Details:

PDF Name : বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt | জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর (Climatology – Geography)

Price : FREE

Download Link : Click Here To Download

INFO : Geography – Climatology – Question and Answer | ভূগোল – জলবায়ুবিদ্যা – বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt – প্রশ্নোত্তর

 ” ভূগোল (Geography) – জলবায়ুবিদ্যা (Climatology) – বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক বিভিন্ন শ্রেনীর পরীক্ষা (Class 5, 6, 7, 8, 9,  Madhyamik, Higher Secondary – HS, College & University Exam) এবং বিভিন্ন চাকরির (WBCS, WBSSC) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে BhugolShiksha.com এর পক্ষ থেকে ভূগোল পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নো ও উত্তর উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  ভূগোল (Geography) জলবায়ুবিদ্যা (Climatology) – বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – Pressure and Pressure Belt / বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় সংক্ষিপ্ত ছোট প্রশ্ন ও উত্তর / বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt – Climatology – Geography  SAQ / Short Question and Answer / বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt – Climatology – Geography Quiz / বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt – Climatology – Geography QNA / বায়ুর চাপ ও চাপ বলয় – জলবায়ুবিদ্যা – ভূগোল প্রশ্নোত্তর | Pressure and Pressure Belt – Climatology – Geography Question and Answer FREE PDF Download ) পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর সফল হবে।

Source : Bhugolika

    স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ডিজিটাল মাধ্যম BhugolShiksha.com । এর প্রধান উদ্দেশ্য পঞ্চম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী, মাধ্যমিকউচ্চ মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় এবং গ্রাজুয়েশনের শুধুমাত্র ভূগোল বিষয়কে  সহজ বাংলা ভাষায় আলোচনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কাছে সহজ করে তোলা। 

        আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের পােস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই আমাদের ভূগোল শিক্ষা – Bhugol Shiksha – BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকুন। ভূগোল বিষয়ে যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইটটি ফলাে করুন এবং নিজেকে ভৌগোলিক  তথ্য সমৃদ্ধ করে তুলুন , ধন্যবাদ।